“আপনারা ভালোবাসা ও যৌনতার তফাৎ বোঝেন না!”, স্ত্রীকে চুম্বনের ছবি ভাইরাল হতেই ধেয়ে আসা কটাক্ষের পাল্টা দিলেন সুদীপ মুখার্জী

নিজস্ব প্রতিবেদন: সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটি জায়গা যেখানে প্রায় সময় কিন্তু মানুষকে নানান ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এখানে সব থেকে বেশি কটাক্ষের মুখোমুখি হয়ে থাকেন তারকারা। ঠিক যেমনটা ঘটেছে সম্প্রতি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা সুদীপ মুখার্জী আর তার স্ত্রী পৃথা চক্রবর্তীর সঙ্গে। সম্প্রতি কিছুদিন আগেই সুদীপের জন্মদিন গিয়েছিল।

স্বাভাবিকভাবেই কাছের মানুষদের নিয়ে জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন এই টলি তারকা। স্বামীর জন্মদিনের দিনই একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন পৃথা। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছিল সুদীপ এবং পৃথা একে অপরকে ভালোবাসার চুম্বনে ভরিয়ে দিচ্ছেন। এই ছবি আপলোড করা মাত্রই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের দিকে ধেয়ে আসে নানান ধরনের কু-মন্তব্য। যদিও অনেকেই তাদেরকে সমর্থন করে বলেন যে এই ছবির মধ্যে খারাপ কিছুই নেই।

বিগত কিছুদিন ধরেই আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই পরিচিতি পেয়ে যান বহু মানুষ। তবে এখানে মানুষ যেমন এক ধাক্কাতেই বহু মানুষকে উপরে উঠিয়ে আনেন, ঠিক তেমনভাবেই সামান্য কোন ভুল করলে নিচে নামিয়ে আনতে সময় লাগে না তাদের। নেটমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই এখন বহু মানুষ অত্যন্ত জাজমেন্টাল হয়ে পড়েছেন বলেও মনে করা হয়।।

সামান্য কোন ব্যাপার কেউ অত্যন্ত বড় করে এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে ফেলা হয়। যদিও যে কোন ব্যাপারে এই অত্যন্ত ভোকাল সুদীপ মুখার্জী। তাই এই বিষয়টা দেখেও একেবারেই চুপ থাকতে পারেননি টলি অভিনেতা। অবশেষে মুখ খুলে সকলকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন তিনি। ছবিটি নিয়ে যারা নানান ধরনের নোংরা মন্তব্য করেছেন, তাদেরকে রীতিমতন কঠিন ভাষায় আক্রমণ করেন অভিনেতা।

সুদীপ মুখার্জির কথায়, “সকলের উদ্দেশ্যে জানাই শুভ বিজয়া। আমার স্ত্রী সম্প্রতি একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন যেখানে তিনি আমাকে আমার জন্মদিনের দিন চুমু খেয়েছিলেন। তবে অনেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে সেটা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্টোরি বানিয়ে চলেছে। ছবিটা আমাদের ব্যক্তিগত একটা পেজে পোস্ট করা হয়েছিল। পোস্টের মন্তব্য দেখে আমার অদ্ভুত হাসি পাচ্ছে। এখানকার মানুষজন কতটা দুঃখী বা তাদের মধ্যে কতটা না পাওয়ার ফ্রাস্টেশন রয়েছে সেটা মন্তব্য দেখে বোঝা যাচ্ছে।

আমার বক্তব্য খুবই সামান্য। আমরা কিন্তু সত্যিই আমাদের দেশের সংস্কৃতি জানি। এত যে বড় বড় কথা বলছেন সবাই, আমরা যারা মুন্সি প্রেমচাদের লেখা বা অন্যান্য অনেক সাহিত্যিকদের লেখায় পড়েছি আমাদের যে মধ্যযুগীয় বর্বর সমাজ ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই সমাজে কিন্তু মানুষ আরেকজনকে মানুষ বলেও গণ্য করত না।

সেখানে থেকে আমরা যতই মেয়েদের পূজো করি না কেন মেয়েদের কিন্তু দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বাল্যবিবাহ আরম্ভ করা হয়েছিল। আমার মনে হয় না আপনারা কোন রকমের প্রাচীন সাহিত্য বা পুরাণ পড়েছেন। এমনকি মহাভারত বা রাধা কৃষ্ণের সম্বন্ধিত কোন লেখাও পড়েছেন বলে মনে হয় না। কারণ সেসব জায়গায় কিন্তু অবাধ যৌনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে”।

সুদীপের আরো সংযোজন, “আপনারা অনেকে বলেন যে আপনারা প্রেমকে পুজো করেন! কিন্তু কেন? আপনাদের সত্যিই কি সংস্কৃতি, ইতিহাস কিংবা পুরান নিয়ে কোন ধারণা রয়েছে? নিজেদের জাগ্রত করুন বা শিক্ষিত করে তুলুন। আপনারা খাপ পঞ্চায়েত খুলে বসবেন না যে, নেট পেয়ে যাচ্ছেন তো যা কিছু লিখে বসবেন।

সেখানে যে অশ্লীল মন্তব্য গুলো করছেন, সেগুলো নিশ্চয়ই আপনাদের সংস্কৃতির ধারক আর বাহক নয়। কোন ভালোবাসার অভিব্যক্তিকে আপনারা সোজাসুজি যৌনতার মধ্যে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। সেটা অন্ততপক্ষে ভারতবর্ষের সংস্কৃতি নয়। আমি মায়ের কাছে প্রার্থনা করি যে আপনাদের শুভ বুদ্ধি জাগ্রত হোক”।

Back to top button