যেই খাবে সেই হবে মুগ্ধ! বাড়িতে খুব সহজ এই পদ্ধতিতে বানিয়ে দেখুন দারুণ টেস্টি কচুর লতির ভর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদন: গ্রাম বাংলার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রান্নার পদ হলো কচুর লতি। যারা কমবেশি গ্রামাঞ্চলে থেকেছেন তারা সকলেই কিন্তু হয়তো এই রান্নাটি খেয়েছেন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা কচুর লতি দিয়েই একটি বিশেষ পদ আলোচনা করতে চলেছি যা দিয়ে খুব সহজেই নিমেষে আপনারা এক থালা ভাত একেবারে চেটেপুটে সাফ করে দিতে পারবেন। কচুর লতির ভর্তা। ছুটির দিনগুলিতে হাতে সময় নিয়ে আপনারা কিন্তু অবশ্যই এই রেসিপি একবার বাড়িতে ট্রাই করতে ভুলবেন না। চলুন এবার স্টেপ বাই স্টেপ এর পদ্ধতি আলোচনা করা যাক।

কচুর লতির ভর্তা তৈরির উপকরণ:

এই রেসিপিটি তৈরি করতে আপনাদের নির্দিষ্ট কয়েকটি উপকরণের প্রয়োজন হবে। সেগুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো—

১) কচুর লতি বড় এক বাটি
২) একটা পেঁয়াজ কুচি করা
৩) দুটো পেঁয়াজ বাটা
৪) একটা গোটা রসুন বাটা
৫) শুকনো লঙ্কা তিনটে বাটা
৬) কাঁচা লঙ্কা দুটো বাটা
৭) সরষের তেল হাফ কাপ
৮) হলুদ হাফ চামচ এবং
৯) স্বাদমতো লবণ।

রন্ধন প্রণালী:

এই রেসিপিটি তৈরি করার জন্য সবার প্রথমেই কচুর লতি ভালো করে ছাল ছাড়িয়ে আপনাদের টুকরো করে নিতে হবে। তারপর একটি বাটিতে উষ্ণ গরম জল নিয়ে নিন। এই জলের মধ্যে হাফ চামচ লবণ দিয়ে তাতে বেশ কিছুক্ষণ সময় কচুর লতি ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর গরম জল থেকে কচুর লতি তুলে ভালো করে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন এবং ঝাঁঝরিতে রেখে জল ঝরিয়ে নিন। এবার চলুন রান্নার মূল পর্বে যাওয়া যাক।

কড়াইতে সর্ষের তেল দিয়ে তা গরম করে নিন। একটু বেশি পরিমাণে তেল দেবেন কারণ এই রান্নায় কিন্তু তেলের পরিমাণ বেশি লাগে। সরষের তেল ভালোভাবে গরম হয়ে গেলে গ্যাসের আঁচ কমিয়ে দিয়ে আপনাদের এরমধ্যে এক এক করে পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো লঙ্কা আর কাঁচা লঙ্কা বাটা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। কিছুক্ষণ কষিয়ে নেওয়ার পর তেল ছাড়তে শুরু করলে এর মধ্যে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং স্বাদ মতন লবণ দিয়ে দিন।

যতক্ষণ পর্যন্ত না হলুদের গন্ধ চলে যাচ্ছে ততক্ষণ আবারো ভালোভাবে কষিয়ে নিতে থাকুন। এবারে পেঁয়াজ কুচি এর মধ্যে দিয়ে দিন। মসলার সাথে পেঁয়াজ কুচি ভালো করে মিশিয়ে আরও পাঁচ মিনিট মত কষান। ক্রমাগত নাড়তে থাকবেন। হালকা সেদ্ধ করা লতি গুলো এবার এতে দিয়ে পাঁচ মিনিট বেশি আঁচে রান্না করুন। তারপর আরো ১৫ মিনিট গ্যাসের আচ কমিয়ে আপনাদের এগুলি ভালো করে রান্না করে নিতে হবে।

ব্যস তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে কচুর লতির ভর্তা। রান্না শেষে অবশ্যই 1 চামচ পাতি লেবুর রস উপর থেকে ভালো করে ছড়িয়ে দিতে কিন্তু ভুলে যাবেন না। প্রসঙ্গত যদি আপনারা রান্না করার আগে কচুর লতি লবণ জলে ভিজিয়ে রাখেন এবং রান্না করার পরে এরকম ভাবে লেবুর রস ছড়িয়ে দেন তাহলে কিন্তু আর কখনোই এই রেসিপিটি খাবার পরে আপনাদের গলা কুটকুট করবে না।

Back to top button