কালীপুজোয় ঘূর্ণিঝড়ে ভিজতে চলেছে কি রাজ্য? কেমন থাকবে আবহাওয়া? বড়সড় আপডেট দিল হাওয়া অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদন: দুর্গা পুজোর আগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হলেও গোটা পুজোটাই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির উপর দিয়ে পেরিয়ে গিয়েছিল। তবে এবারে কালীপুজো নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েছেন বঙ্গবাসী। আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষার পরেই রয়েছে দীপাবলি আর কালীপুজো। তবে বিগত কয়েকদিন ধরেই মৌসম ভবন সূত্রে যা খবর জানা যাচ্ছে তাতে মানুষের মধ্যে চিন্তার শেষ নেই।

নিম্নচাপ থেকে শুরু করে সুপার সাইক্লোন সবকিছুর আগমনের কথাই এই সময়ে জানানো হয়েছে। তবে কি সত্যিই কালীপূজায় বৃষ্টি আর ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে? দুর্গাপুজোর মতন কালীপুজোতেও কি মানুষের আনন্দে ভাটা পড়বে! আসুন আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত তথ্য। সম্প্রতি গতকাল ১৩ই অক্টোবর কালীপুজোর আগে আবহাওয়ার অবস্থা নিয়ে বিশেষ তথ্য জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, বঙ্গোপসাগর থেকে যে জলীয় বাষ্পপূর্ণ হওয়ার প্রবেশ ঘটেছে তার সাথে উত্তর-পশ্চিমের বায়ুর সংঘাত হচ্ছে। যার ফলস্বরূপ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী দুই থেকে তিন দিন মোটামুটি হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকছে। যদিও পরবর্তীতে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কথাই জানানো হয়েছে। এদিকে বিগত কয়েক দিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে আগামীকাল থেকেই সেই আবহাওয়ার উন্নতি হবে বলে জানা গিয়েছে। ১৫ তারিখ থেকে পরবর্তী কয়েকদিনে কোনো রকমের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই এমনটাই জানিয়েছে মৌসুম ভবন।

তবে কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আগামী দুই থেকে তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে এবং তাপমাত্রার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। বর্ষা বিদায় প্রসঙ্গে মৌসুম ভবন জানিয়েছে যে উত্তর-পশ্চিম ভারতের অনেক অংশ থেকেই বর্ষা বিদায় নিয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই মধ্য ভারত এবং পূর্ব ভারতের অনেক অংশ থেকেও বর্ষা চলে যাবে।

অর্থাৎ কোথাও কিন্তু এখনো পর্যন্ত নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই আপডেট জানার পর কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বঙ্গবাসী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিগত কয়েকদিন ধরে এই কালীপুজোর আগে সুপার সাইক্লোন এর আগমনের কথা শোনা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে চলেছে যা শক্তি সঞ্চয় করে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে সিত্রাং। এটি ভারতের অন্ধপ্রদেশ কিংবা ভারত বাংলাদেশের উপকূলের কোন একটি স্থান দিয়ে স্থল ভাগে পার হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী মৌসুম ভবন কিছু না বললেও আগামী ১৭/১৮ অক্টোবর নাগাদ তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপ সম্ভবত ১৯ তারিখের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে।

এটির কেন্দ্রে বাতাসের গতি হতে পারে ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। ২৪ বা ২৫ তারিখ নাগাদ এটি স্থল ভুমিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকছে। তবে ঘূর্ণিঝড় যেখানেই ভূমি স্পর্শ করুক না কেন উপকূলীয় অঞ্চলে কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই ঝড় যদি বাংলার দিকে ধেয়ে আসে সেক্ষেত্রে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়।

Back to top button