“মুখের তো কোনো শ্রী নেই! শুধু শাড়ি, গয়না পড়ে লাফালেই মা দুর্গা হয় না! কবে বুঝবেন?”, সব চ্যানেলের দুর্গাদের ধুয়ে দিলেন শ্রীলেখা!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- মহালয়া মানেই কিন্তু বাঙালির কাছে এক প্রকার আলাদা আবেগ বলা যায়। বাঙালির পুজোর আমেজ এই মহালয়া থেকেই কিন্তু শুরু হয়ে যায়। আগেকার দিনে মহালয়ার ভোর মানেই তার শুরু হতো বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহালয়া দিয়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। এখন বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেলের যুগ। তাই বিগত কয়েকবছর ধরে রেডিও-এর পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও, মহালয়া দেখার উৎসাহ কম থাকে না। প্রত্যেকটা চ্যানেলে কিন্তু নিজেদের মতন করে মহিষাসুরমর্দিনীর গল্প সম্প্রচার করা হয়ে থাকে।

সেই সমস্ত অনুষ্ঠান গুলিতে বিভিন্ন চরিত্র হিসেবে দেখা যায় টলিউড এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন তারকাদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্ত অনুষ্ঠানের দারুন ভিএফএক্স এর কাজ থাকলেও আজকালকার সময় কিন্তু আর মহিষাসুরমর্দিনীর মূল গল্প বলতে কিছুই লক্ষ্য করা যায় না।বর্তমানে বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেলের মহালয়া বলতেই যে জিনিসটা সবথেকে বেশি দেখা যায় সেটা হল প্রচুর পরিমাণে নাচ আর লম্ফ ঝম্ফ। বর্তমান দিনে খরচ তো বহুত হয়েছে কিন্তু সেই পুরনো দিনের দূরদর্শনের মহালয়ার আমেজ ফিরিয়ে আনতে পারেনি কোনো টিভি চ্যানেলে।

জাঁকজমক, লাইট, সাউন্ড আর অ্যাকশনের মাঝে হারিয়ে গেছে আসল মহালয়ার সেই গাম্ভীর্য। মহালয়ার অনুষ্ঠানের প্রমো ভিডিওগুলি ভাইরাল হতেই কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হাসির খোরাক হয়ে উঠেছিল এগুলি। কখনো দেবী দুর্গা বা অসুরের নাচ আবার কখনো তাদের মেকআপ দেখে রীতিমতো হাসিতে ফেটে পড়েছিলেন নেটিজেনরা। সম্প্রতি এই প্রসঙ্গকেই হাতিয়ার করে নিজের বক্তব্য রাখলেন টলিউড ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে একটি পোস্টে শ্রীলেখা লিখেছেন, “মা দূর্গা সাজতে গেলে ডিজাইনার শাড়ি, গয়না লাগে না আর স্পেশ‍্যাল এফেক্টস দিয়ে ‘খামতি’ গুলো পূরণ করা যায় না। চ‍্যানেল এবং বাকিরা বুঝবেন কবে? আমাদের ছোটবেলার মা দূর্গা সেজেছিলেন সংযুক্তা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় দূরদর্শনে। তাকে মানাত, তার মুখের শ্রী ছিল মায়ের মতো। আপনাদের সেটা নেই”। সঙ্গে আরো যোগ করে শ্রীলেখা লেখেন, “দোষ আপনাদের নয়, সিস্টেমের। রাজনৈতিক এবং ক্ষমতার।

আবার ভাববেন না দয়া করে আমাকে কোনোদিন মা দূর্গা হতে দেখেননি বলে আমি হিংসেতে বলছি আর ভাবলেও কী বা যায় আসে আমার আপনার বলুন? সাধারণত্বেরই সবসময় জয়জয়কার হয় এটা বুঝলে আমার চোদ্দো পুরুষের ভাগ‍্য”। শ্রীলেখা মিত্রের এই বক্তব্য যে নিছক মিথ্যে নয় সে কথা কিন্তু মহালয়ার সকালে বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেলগুলির মহিষাসুরমর্দিনীর অনুষ্ঠান দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন। অনেকটা টমেটো,ক্যাপসিকাম এর মতন মেকআপ করে অসুরের সাজ তৈরি করা হয়েছে।

আবার কোথাও পুরানের মূল গল্পই বদল করে দেওয়া হয়েছে। যা দেখে রীতিমত ক্ষুব্ধ দর্শকেরা। অনেকেই আবার পূর্ববর্তী সময়ের মতন ডিডি বাংলার সেই পুরনো মহালয়া ফেরত নিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন। আবার অনেকেই বলেছেন বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেলগুলির মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার অনুষ্ঠান বয়কট করার কথা। সাধারণত প্রাইভেট চ্যানেলে যে অনুষ্ঠানগুলি দেখানো হয় প্রতিটাই টিআরপির উপর ভিত্তি করে সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। মূল গল্পের সামান্যতম অংশও কিন্তু এখানে দেখতে পাওয়া যায় না।

Back to top button