তলিয়ে যাবে কলকাতা সহ বাংলার দুই উপকূল, আর হাতে কতদিন সময় আছে? কী বলছে বিজ্ঞানীরা?

তলিয়ে যাবে কলকাতা সহ বাংলার দুই উপকূল, আর হাতে কতদিন সময় আছে? কী বলছে বিজ্ঞানীরা?

নিজস্ব সংবাদদাতা: পরিবেশ দূষণের ফলাফল দেখতে হবে বিশ্ববাসীকে, আমাদের আগামী প্রজন্ম কে। সভ্য হবার নেশায় চুর হয়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত করেছি আমাদের পৃথিবীকেই। পৃথিবী র উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুতে জমাট বেঁধে থাকা বিপুল পরিমাণ বড় ধীরে ধীরে চলছে এবং তার জল সমুদ্রে মিশে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী আগামী 30 বছরের মধ্যে ডুবে যেতে পারে কলকাতা শহর শহর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ভাগের অনেকাংশ।এই জমা বরফ ধীরে ধীরে গলে জল হয়ে সমুদ্রে মেশার ফলে বাড়িয়ে দিচ্ছে সমুদ্রের জলের উচ্চতা। ভারতের প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে, হুগলি নদীর মুখে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার সর্বাধিক সমুদ্র স্তরের বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে।

সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি প্রমাণ করেছে যে গত 40-50 বছর ধরে ভারতের উপকূল জুড়ে দেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার প্রতি বছর 5.16 মিমি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারের জন্য গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি 1948 থেকে 2005 সাল পর্যন্ত রেকর্ডিংয়ের উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছিল। এর পরের স্থানে রয়েছে গুজরাটের কান্দলা বন্দর। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন বন্দরে সমুদ্রতলের উচ্চতা বৃদ্ধি হয়েছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন। এই সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক প্যানেলের পঞ্চম মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুসারে, গত শতাব্দীর তুলনায় বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের স্তর প্রতি বছর গড়ে ১.৮ মিমি হারে বৃদ্ধি হয়েছে।

বিজ্ঞান মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চারটি বন্দর – ডায়মন্ড হারবার, কান্দলা, হলদিয়া এবং পোর্ট ব্লেয়ার – সারা বিশ্বের গড়ের তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যায়। যেমন ঝড় বৃদ্ধি, সুনামি, উপকূলীয় বন্যা, উচু ঢেউ, ভূমিগ্রাস হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিষ্টি জল এবং লবণাক্ত জলের মিশ্রণের ফলে বদ্বীপীয় পলল জমার কারণেই পশ্চিমবঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেশি।


Leave a Reply

Your email address will not be published.