মুখ কালো তো দূর! ঘামবেও না! শুধুমাত্র বাড়িতেই খুব সহজ এই দুর্দান্ত উপায়ে করুন মেকআপ

নিজস্ব প্রতিবেদন: পুজো হোক বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান সাজগোজের জন্য অনেকেই কিন্তু মেকআপ ব্যবহার করে থাকেন। তবে এই মেকআপ করার কিন্তু অনেক নিয়ম রয়েছে যা কমবেশি অনেকেই জানেন না। সবসময় কিন্তু মেকআপ করলেই তা পারফেক্ট হয় না। প্রসঙ্গত মেকআপ করার পরে যে সমস্যাটা সবথেকে বেশি দেখা যায় তা হল কখনো হয়তো মুখ বেশি কালচে হয়ে যায় কিছুক্ষণ পর থেকেই, আবার কখনো বা মুখের উপর লাইন পড়ে যেতে থাকে কিংবা নাকের উপরের অংশ মেকাপ উঠে যায়।।

যদি আপনারাও নিয়মিত এ সমস্ত সমস্যার ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন মেকআপ করতে গিয়ে তাহলে অবশ্যই আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র আপনার জন্যই। চলুন তাহলে আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে মেকআপ করলে আর এই সমস্ত সমস্যা হবে না এবং পুজোর দিনগুলিতে আপনারা খুব সুন্দর ভাবে সাজতে পারবেন।

পারফেক্ট পদ্ধতিতে মেকআপ টিউটোরিয়াল:

১) একটা মেকআপ ঠিক তখনই খুব সুন্দর ফিনিশিং পাবে যখন এটা শুরু করার আগে আপনারা নিজেদের স্কিনের প্রতি ভালোভাবে যত্ন নেবেন। মেকআপ করার আগে কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার। মেকআপ করার শুরুতেই কিন্তু আপনাদের ভালোভাবে স্কিন পরিষ্কার করে নিতে হবে। শুধুমাত্র জল দিয়ে না ধুয়ে আপনাদের প্রথমেই কিন্তু একটা ফেসওয়াশ ব্যবহার করে নিতে হবে।

ফেসওয়াশ ব্যবহার করার পরে আপনাদের ভালো করে ত্বকের উপর একটা স্ক্রাবার ব্যবহার করে নিতে হবে। কারণ আপনাদের ত্বকে প্রচুর পরিমাণে ডেড সেল থাকে আর এই মরা কোষগুলির কারণে কিন্তু মেকআপ বসতে চায়না। এক মিনিট পর্যন্ত স্ক্রাবিং করলেই কিন্তু কাজ হয়ে যাবে। স্ক্রাবিং করে নিলে কিন্তু নাকের পাশে বা মুখের কোন জায়গা থেকে কিন্তু মেকআপ চট করে উঠবে ও না। ব্ল্যাকহেডস এর সমস্যাও কিছুক্ষণের জন্য দূর হয়ে যাবে।

২) স্ক্রাবিং করার পরে আপনাদের টোনার হিসেবে রোজ ওয়াটার অর্থাৎ গোলাপ জল ব্যবহার করে নিতে হবে। টোনারের ব্যবহার করার পরে আপনাদের লাগিয়ে নিতে হবে একটা সিরাম। সিরাম ব্যবহার করলে কিন্তু স্কিন অনেকটাই স্মুথ হয়ে যায়। সিরামের পর আপনাদের ব্যবহার করতে হবে মশ্চারাইজার। এই ক্ষেত্রে আপনারা পন্ডসের সুপারলাইট জেল মশ্চারাইজার অথবা নিভিয়ার মশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিতে পারেন।

তারপর আপনাদের ব্যবহার করে নিতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাইমার। শুধুমাত্র মুখে নয় আপনাদের কিন্তু গলাতেও ভালোভাবে প্রাইমার লাগিয়ে নিতে হবে। সার্কুলার মোশন আপনাদের প্রাইমার লাগাতে হবে। খুব জোরে কিন্তু এটাকে স্কিনের উপর রাব করবেন না।

৩) প্রাইমার ইউজ করার পরে কিন্তু কিছুক্ষণ সময় আপনাদের অপেক্ষা করে নিতে হবে যাতে সমস্ত উপকরণ গুলি স্কিনে ভালোভাবে বসে যায় এবং মেকআপ ব্লেন্ড করতে সুবিধা হয়।। এরপর আপনাদের ফেস কারেকশন করে নিতে হবে। অনেকের মুখেই কিন্তু অনেক রকমের প্রবলেম থাকে যেমন ব্ল্যাক স্পটস বা নানান ধরনের দাগ ছোপ।

এই ধরনের দাগ থাকলে কিন্তু সম্পূর্ণরূপে ফাউন্ডেশন ত্বকে ব্লেন্ড করা পসিবল হয় না। যে কোন ব্র্যান্ডের ভালো কনসিলার নিয়ে এর জন্য আপনারা ভালো করে যে সমস্ত জায়গায় দাগছোপ রয়েছে হালকা করে লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল ও কিন্তু আপনারা ঠিক এভাবেই কারেকশন করে নিতে পারবেন।

৪) এবার এপ্লাই করতে হবে ফাউন্ডেশন। যাদের চোখের নিচে ফাইন লাইনসের প্রবলেম রয়েছে তারা কিন্তু সরাসরি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। এবার একটা বিউটি ব্লেন্ডার দিয়ে আপনাদের ভালো করে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করে নিতে হবে। যদি ব্লেন্ডার দিয়ে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করার সময় আপনাদের সমস্যা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে যে জায়গাটা দিয়ে আপনারা ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করছেন সেই জায়গাটাতে আপনাদের সামান্য পরিমাণে রোজ ওয়াটার স্প্রে করে দিতে হবে। রোজ ওয়াটার না থাকলে আপনারা কিন্তু চাইলে মেকাপ ফিক্সার ও ব্যবহার করে নিতে পারেন। এরপর চোখের যে ডার্ক সার্কেল এরিয়া রয়েছে সেখানে আপনাদের হালকা করে কনসিলার এপ্লাই করে নিতে হবে।

৫) তারপর আবারো বিউটি ব্লেন্ডার দিয়ে আপনাদের কনসিলার ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এবারে মেকআপ সেট করার জন্য আপনাদেরকে কিন্তু ব্যবহার করে নিতে হবে লুজ পাউডার। চেষ্টা করবেন কম্প্যাক্ট পাউডার ব্যবহার না করার। সাথে সাথে কিন্তু লুজ পাউডার আপনারা ঝেড়ে দেবেন না কিছুক্ষণ রেখে দেবেন যাতে ভালোভাবে সেট হয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে মেকাপের বাদবাকি কাজগুলি আপনারা করে নিতে পারেন।

এবার ধীরে ধীরে আইলাইনার লাগানো থেকে শুরু করে আইশ্যাডো এপ্লাই সমস্ত কাজগুলো আপনাদের করে নিতে হবে। তারপর একটি লিকুইড লিপস্টিক ব্যবহার করে আপনারা মেকআপ কমপ্লিট করে সব শেষে ব্রাশের সাহায্যে লুজ পাউডার ফেসের উপর থেকে ঝেড়ে দিন।। আরো একটা কথা আপনাদের বলব যে আপনারা কিন্তু অবশ্যই ফেসের সাথে সাথে গলাতেও ফাউন্ডেশন আর লুজ পাউডার এপ্লাই করতে ভুলবেন না অর্থাৎ গলার অংশতেও কিন্তু একই রকম ভাবে মেকআপ করতে ভুলবেন না।

কারণ অনেকেরই কিন্তু ফেস আর গলার রং আলাদা হয়ে যায় এই ক্ষেত্রে। যেটা দেখতে একেবারেই ভালো লাগেনা। আমাদের এই প্রতিবেদনে যেভাবে আলোচনা করা হয়েছে ঠিক সেরকম ভাবে যদি আপনারা স্টেপ বাই স্টেপ মেকআপ করে নিতে পারেন তাহলে কিন্তু এটি লং লাস্টিং হবে এবং কোন রকমের কালচে ভাব এর মধ্যে দেখা যাবে না।

Back to top button