“সিটি গোল্ডের গয়না পরে চালবাজি! ফালতু মেয়েছেলে!”, নিজের গয়না বহুমূল্য দাবি করায় ফের ট্রোলড সুদীপা

নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমানে বিতর্কের অপর নাম হয়ে গিয়েছে সুদীপা চ্যাটার্জী। পান থেকে চুন খসলেই সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ তার সমালোচনায় মগ্ন হয়ে যাচ্ছেন। তিনি যাই করুন না কেন কেউই যেন তা সহ্য করতে পারছে না। অন্ততপক্ষে বিগত কিছুদিনের উপর নজর রাখলে তো একথা স্পষ্ট ভাবেই বলা যায়। গত আগস্ট মাসে ডেলিভারি বয়দের উদ্দেশ্য করে একটি কুরুচিকর মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন রান্নাঘরের সঞ্চালিকা সুদীপা চ্যাটার্জী। তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অসভ্য উদ্ধত মহিলা থেকে শুরু করে আরো নানান ধরনের কটাক্ষে ভূষিত করা হয়েছিল।

তবে তার পরেও সকলের সঙ্গে তর্ক চালিয়ে গিয়েছিলেন সুদীপা একাই। শেষমেষ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় instagram এর একটি পোস্টের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছিলেন সুদীপা। তাতে বিতর্ক থেমে গেলেও মানুষ এখনো কিন্তু সেই স্মৃতি ভুলে যাননি। ডেলিভারি বয় সম্পর্কিত সেই বিতর্ক কাটতে না কাটতেই আবারো নিজের গয়না নিয়ে বড়াই করে সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের সমালোচনার মুখোমুখি পড়লেন রান্নাঘরের সঞ্চালিকা।

আসলে সম্প্রতি সুদিপা নিজের মহানবমী স্পেশাল কয়েকটি ছবি শেয়ার করে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছেন। যেই পোস্ট এর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আমার নবমী লুক অনেকেই পছ্ন্দ করেছে, এবার আমি এই লুক তৈরি করব আপনাদের জন্য। যেটা হতে পারে দিওয়ালি লুক। একটি তসর বেনারসি শাড়ি ও সঙ্গে দুটো নেকলেসের সেট যেটা ব্রোঞ্জ ও কপার দিয়ে তৈরি, সোনার পালিশ(আমারটা সোনার, মাত্রাতিরিক্ত দামি) ।

তবে ডিজাইন ও মেকিং একই হবে কারণ দুটোই একই দক্ষিণ ভারতীয় কারিগরকে দিয়ে তৈরি হবে”। প্রসঙ্গত সুদিপার একটি নিজস্ব বুটিক রয়েছে সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি বা জুয়েলারি বিক্রি করে থাকেন তিনি। তার মহানবমী স্পেশাল লুক অনেকের পছন্দ হওয়ায় হুবহু তার একটি কপি তিনি তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্রির জন্য পোস্ট করেছিলেন। তবে সেখানে বানানো সেই গয়নাগুলিকে সাধারণ বললেও নিজের গয়নাগুলিকে বেশ আলাদা করে ‘সোনার তৈরি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর এই ব্যাপারটা একেবারেই মানতে চাননি, নেটিজেনদের একাংশ।

সুদীপার সেই পোস্ট ভাইরাল হতে না হতেই কমেন্ট বক্সে বয়ে গিয়েছে সমালোচনার বন্যা। সঞ্চালিকা পোস্টে এক জনৈক নেটিজেন লিখেছেন, “সুদীপা দিদির অনেক সোনা আছে, এটা কি উনি জানাতে চায়?” কেউ লিখেছেন, “সোনা কেনার ক্ষমতা আপনার একার নেই। মানুষকে আন্ডারএস্টিমেট কম করুন। সবাই তো আপনার মতো হঠাৎ করে বড়লোক হয়নি, তাই এরম শো্ অফ করার দরকার পড়েনা।

যারা সত্যি বিত্তবান তারা সোনা সোনা করে চেঁচিয়ে বেড়ায় না।” কেউ কেউ এও বলেছেন, “শিক্ষা কম থাকলে যা হয় আর কি। নৈতিক শিক্ষার কথা বলছি। সোনা গয়না বা ধন দৌলত জাহির করার বস্তু না। কিন্তু জ্ঞান ধারণা কম থাকলে কথায় কথায় মানুষ তা ব্যক্ত করে। প্রাচুর্য্য থাকতেই পারে কিন্তু তা দেখিয়ে কি হবে ? বাকিদের থেকে একটু বড় হতে পারবেন, এই ভাবেন কী?” যদিও এই প্রথমবার নয় এর আগেও একবার গয়না নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন সুদীপা।

পূর্ববর্তী এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন তিনি সোনার গয়না ছাড়া কোন কিছুই পড়েন না। তার এই ধরনের অহংকারপূর্ণ বক্তব্য মানতে পারেননি অনেকেই। তারপর থেকেই গয়না সম্বন্ধিত কোন পোস্ট করলে ট্রোলিং এর মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবে এবার যে এই সমালোচনার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সবশেষে পাঠকদের উদ্দেশ্যে আরও একটি মজার ব্যাপার জানিয়ে রাখি, সুদীপা চ্যাটার্জির এই পোস্ট থেকে উপরিউক্ত প্রায় কমবেশি সব কমেন্টই ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বেশিরভাগ কমেন্ট কিন্তু বর্তমানে আর দেখা যাচ্ছে না।

Back to top button