একদম সহজ এই ৭টি দুর্দান্ত উপায়ে বেসন করুন সংরক্ষণ, লাগবে না কোনোদিনও পোকামাকড়

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের সকলের বাড়িতেই কিন্তু বিভিন্ন কাজের জন্য বেসন, ময়দা অথবা সুজি প্রভৃতি সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এগুলো সংরক্ষণ করতে গেলে কিন্তু প্রচুর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় আমাদেরকে। লক্ষ্য করে দেখবেন কয়েক দিন বাড়িতে বেসন রাখার পরে কিন্তু সেটাতে পোকা লেগে যায়। তারপর কিন্তু চাইলেই আর বিভিন্ন কাজে এটাকে ব্যবহার করা যায় না। এবার প্রত্যেকবার কিছু রান্না তৈরি করার আগে তো বাইরে ও যাওয়া সম্ভব নয় তাই না?

সুতরাং সংরক্ষণ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। গরম ও বর্ষাকালে এই পোকামাকড়ের উপদ্রব কিন্তু বেশি হয়ে থাকে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চলেছি যাতে খুব সহজেই আপনারা কিন্তু বেসনকে পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন। এতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বেসন সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।

বেসন পোকামাকড় হওয়ার হাত থেকে রক্ষার উপায়ঃ

১) বেসন হালকা সেঁকে নিন:

বাজার থেকে বেসনের প্যাকেট কিনে নিয়ে আসার পরেই কিন্তু অনেকে সেটাকে বয়ামে ভরে রাখেন। এবার থেকে এই কাজটা কিন্তু আপনারা আর করবেন না। একটি লোহার কড়াই গরম করে তাতে বেসন ঢেলে ২ মিনিট নেড়েচেড়ে নিন। তারপর ঠাণ্ডা হলে বয়ামে রাখুন। তাহলে কিন্তু আর বেসনের মধ্যে কোন রকমের পোকামাকড়ের উপদ্রব হবে না। আর এভাবে যদি আপনারা বয়ামে ভরে রাখেন তাহলে কিন্তু দেখবেন বর্ষাকালে যে স্যাতস্যতে ভাব থাকে সেটাও কিন্তু অনেকটা দূর হয়ে যাবে। সুতরাং অবশ্যই এবার থেকে বেসন নিয়ে আসার পরে এই পদ্ধতি ট্রাই করতে ভুলবেন না।

২)তেজপাতার ব্যবহার :

তেজপাতার গন্ধ কিন্তু পোকামাকড় কোনরকম ভাবেই সহ্য করতে পারে না। সুতরাং বেসনকে পোকামাকড়ের উপদ্রবের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিন্তু আপনারা তেজপাতা ব্যবহার করতে পারেন। যে বয়ামের মধ্যে আপনারা বেসন ভরে রাখছেন সেটাতে তিন থেকে চারটে তেজপাতা রেখে দিন। ব্যাস তাহলেই আর কিছু করতে হবে না। কিছুদিন অন্তর অন্তর এই পাতা আপনারা বদলে দেবেন। দেখবেন আর কোনো রকম ভাবেই কিন্তু পোকামাকড়ের উপদ্রব হবে না।

৩) শুকনো লঙ্কার ব্যবহার:

তেজপাতার মতন শুকনো লঙ্কার ঝাঁজ পোকামাকড় কিন্তু একেবারেই সহ্য করতে পারে না। সুতরাং আপনার বাড়িতে যদি তেজপাতা না থাকে সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে আপনারা যে বয়ামে বেসন রেখেছেন তার মধ্যে কয়েকটি শুকনো লঙ্কা রেখে দিতে পারেন।। এতে আর কোন রকম ভাবেই কিন্তু বেসনের মধ্যে আর পোকামাকড় আসার সুযোগ পাবে না।

৪)বেসনে পুদিনা পাতা রাখা :

যে পাত্রে আপনারা বেসন সংরক্ষণ করছেন সেখানে পুদিনাপাতা রাখতে পারেন। তবে এখানে কিন্তু টাটকা পুদিনা পাতা ব্যবহার করার কোন দরকার নেই। পুদিনা পাতার শুকিয়ে নেওয়ার পর সেটা এখানে ব্যবহার করবেন। চেষ্টা করবেন যে মাসে অন্তত একবার এই পাতা বদলে দেওয়ার। ফলাফল আপনারা হাতেনাতেই দেখতে পারবেন।

৫)ফ্রিজে সংরক্ষণ করা :

বেসনকে পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে চাইলে আপনারা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এর জন্য আপনাদের একটি এয়ারটাইট কন্টেনার ব্যবহার করতে হবে। তারপর এটাকে নরমাল ফ্রিজে ভরে রাখুন। কোনরকম পোকামাকড় কিন্তু এটার মধ্যে আসবেনা।

৬) নিম পাতার ব্যবহার:

বেসনকে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে আপনারা নিমপাতা ব্যবহার করতে পারেন। তবে টাটকা পাতা ব্যবহার না করে বেশ কয়েকদিন নিমপাতাকে শুকিয়ে নেবেন ।ভালো করে একটি এয়ার টাইট পাত্রে বেসনের সাথে নিম পাতা রাখলে বেসনে পোকা হয় না। মোটামুটি দুই সপ্তাহে একবার আপনাদের এই নিম পাতা পরিবর্তন করে দিতে হবে।

৭) কালোজিরার পুটুলির ব্যবহার:

বেসনকে পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কালোজিরার পুটুলি কিন্তু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এটি তৈরি করার জন্য একটা সুতির কাপড়ে এক চামচ কালোজিরে দিয়ে আটকে দিন। ছোট পুটুলির মত হবে। এবার এটা বেসনের বাক্সে বেসনের ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে দিন। অন্ততপক্ষে কিছুদিন অন্তর অন্তর যদি আপনারা আবার নতুন পুটুলি এখানে দিতে পারেন অর্থাৎ পুরনো পরিবর্তন করে দিতে পারেন তাহলে কিন্তু আর পোকামাকর ভুল করেও আপনার বাড়িতে থাকা বেসনের ধারে কাছে আসবেনা।

Back to top button