“সপ্তর্ষি রোজ এক থাকে না! প্রতিদিনই সে চেহারা বদল করে!”, নিজের স্বামীকে কেন এমন মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী সোহিনী?

নিজস্ব প্রতিবেদন:- আজ দীর্ঘ ৯ বছর হয়ে গেল চুটিয়ে দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছেন সপ্তর্ষি মৌলিক আর সোহিনী সেনগুপ্ত। অথচ সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন একটা সময় সম্পর্ক থেকে ভীষণ রকমের ভয় পেতেন সোহিনী। বিয়ে করার কোনরকম ইচ্ছে তো তার মধ্যে কখনোই ছিল না। তবে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না মাত্র তিন মাসের আলাপে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিয়ে করেছিলেন সপ্তর্ষি মৌলিক কে। সপ্তর্ষি নিজেও একজন অভিনেতা। থিয়েটার থেকে শুরু করে ছোট পর্দা মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে ফেলেছেন তিনি।

সম্প্রতি এক নিভৃত আলাপচারিতায় সপ্তর্ষি প্রসঙ্গে মুখ খোলেন সোহিনী সেনগুপ্ত। এই তারকা দম্পতিকে নিয়ে কিন্তু নেটিজেনদের মধ্যে বহুদিন ধরে এই নানান ধরনের জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। এর প্রধান কারণ তাদের বয়সের পার্থক্য। তবে সে কথায় আমরা পরে আসছি। চলুন তার আগে জেনে নেওয়া যাক সপ্তর্ষি মৌলিককে নিয়ে কি বলেছেন তার স্ত্রী সোহিনী! সোহিনী সেনগুপ্তের কথায়, “বন্ধুদের তো মুখের উপর বলে দেওয়া যায়, ‘আজ তোকে দেখতে ইচ্ছে করছে না, সামনে থেকে সরে যা’। কিন্তু কাউকে বিয়ে করলে তো ২৪ ঘণ্টা, ৩৬৫ দিন সহ্য করতে হবে। এটা যে আমি করতে পারব কখনই কিন্তু ভাবিনি”।

সঙ্গে আরো যোগ করে নান্দীকারের এই নাট্য পরিচালক বলেন, “না সপ্তর্ষি। আমাকে সব রকম স্বাধীনতা দেয়। আমি যখন বই পড়তে চাই, আমাকে আমার মতো ছেড়ে দেয়। যে দিন রান্না করতে চাই, করতে দেয়। ভীষণ সহজ-সরল, ভাল মানুষ ও, এক জন পারফর্মারের পক্ষে ওর সঙ্গে থাকা খুব সুবিধেজনক। এটা এখনও চলছে, আশা করি আরও কিছু দিন চলবে”। সোহিনী সেনগুপ্ত আরো জানিয়েছেন যে তাদের মধ্যে অনন্ত কথার সমুদ্র রয়েছে।

সপ্তর্ষি তার কথার প্রেমেই পড়েছিলেন। সপ্তর্ষি মুখের উপর যে কোন কথা বলতে পছন্দ করেন। কোন কথা যদি নির্মম সত্যি হয়ে থাকে সেটাও কিন্তু বলতে সপ্তর্ষি দ্বিধা করেন না, যা সোহিনীর কাছে রীতিমতো ওষুধ হিসেবে কাজ করে। স্বাতীলেখা-কন্যা সপ্তর্ষির মতো এক জন মানুষেরই অপেক্ষায় ছিলেন কি না জানতে চাইলে অভিনেত্রীর জবাব, “সপ্তর্ষি ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতাম না। একা থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার ওর সঙ্গে সব কিছু ঠিক মনে হয়। আমাদের কথার শেষ নেই। পুরোদমে চলছে। একসঙ্গে নাটক লেখার স্বপ্ন থেকে শুরু করে পোষ্যপ্রেম, বিশ্বনিরীক্ষা— সবেতেই আমরা একসঙ্গে পা ফেলি।”

পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি,২০১২ সালে অভিনয়ের ইচ্ছে নিয়ে নান্দীকারের কর্মশালায় এসে পড়েছিলেন সপ্তর্ষি। তারপরেই এই অভিনেতা প্রেমে পড়েন রুদ্রপ্রসাদ-স্বাতীলেখার কন্যা সোহিনীর। সগর্বে সে কথা বলেও ফেলেন নাট্যগুরু রুদ্রপ্রসাদকে। জানিয়েছিলেন, তাঁর মেয়েকে বিয়ে করতে চান। আর রুদ্রপ্রসাদও তেমনই সহজ মানুষ। জানা যায় এই কথা শোনার পর ছাত্রের সামনে গাম্ভীর্য বজায় রাখলেও পাশের রুমে গিয়ে একচোট হেসে নিয়েছিলেন তিনি। মাত্র তিন মাস প্রেম করবার পরেই মালাবদল সেরে নেন সোহিনী আর সপ্তর্ষি।

২০১৩ সালের ২রা অগস্ট রেজিস্ট্রি করে বিয়ের পর্ব সেরেছিলেন নান্দীকার নাট্যগোষ্ঠীর এই দুই সদস্য। ট্রোলাররা অনেক সময়ই তাঁদের বয়সের পার্থক্য কিংবা একটু বেশিই হ্যান্ডসম স্বামীকে নিয়ে সোহিনীর দিকে কটাক্ষের আঙুল তোলেন ঠিকই, তবে সেই সব নিয়ে কুছ পরোয়া নেই এই জুটির। উল্লেখ্য সোহিনী সেনগুপ্তর থেকে প্রায় ১৪ বছরের ছোট সপ্তর্ষি মৌলিক। তবে তার পরেও একেবারে সার্থক প্রেমিক হয়ে উঠেছেন ‘এক্কাদোক্কা’ খ্যাত এই অভিনেতা।

Back to top button