শতরঞ্চি গোটানো থেকে লোকের ফাই ফরমাস খাটা! তবুও মেলেনি সুযোগ, চৈতালী চক্রবর্তীর অজানা গল্প সত্যিই করে অবাক!

নিজস্ব প্রতিবেদন: টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন চৈতালি চক্রবর্তী।। বহু ধারাবাহীকে তিনি কিন্তু খলনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পজিটিভ চরিত্রেও কিন্তু সমানভাবে সাবলীল চৈতালি। পর্দায় তার অসাধারণ অভিনয় খুব সহজেই বাস্তব জীবনে তার অনুরাগী সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি জোশ টকস নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কিছু কথা তুলে ধরেন চৈতালি চক্রবর্তী।। যা জানলে কমবেশি তার সকল অনুরাগীরাও কিন্তু অবাক হয়ে যাবেন।

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন চৈতালি চক্রবর্তী। অভিনয়টা তার মধ্যে একটা সহজাত গুণ বলেই মনে করে থাকেন অভিনেত্রী। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জানা যায়, এই অভিনেত্রীর দিদিমা দিপালী চক্রবর্তী থেকে শুরু করে মা শেলী পাল, বাবা পরিতোষ পাল, সবাই ছিলেন নান্দীকারের মেম্বার। এ ছাড়া বাংলার স্বরাধন্য অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী হলেন তাঁর মাসি। এরকম ধরনের একটা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের মধ্যে থেকে ছোটবেলা থেকেই কিন্তু অভিনয়ের প্রতি আলাদা রকমের আগ্রহ জন্মেছিল চৈতালির।

আসলে তাকে কখনো অভিনয় আলাদা করে শিখতে হয়নি। অভিনয় দেখেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠেছেন চৈতালি। ১৯৯৭ সালে জন্মভূমি ধারাবাহিক এর মাধ্যমে বাংলা সিরিয়ালে প্রথমবার পা রাখেন চৈতালি চক্রবর্তী। প্রথম সিরিয়ালে কিন্তু খলনায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন নায়িকা। এই ধারাবাহিকে চৈতালি অভিনীত চরিত্রের নাম ছিল স্বর্ণময়ী। সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানেন এই ধারাবাহিকটিতে যখন তিনি অভিনয় করছিলেন তখন তার বাড়িতে সদ্যোজাত সন্তান ছিল।

আসলে তার মেয়ে যখন এক বছরের তখন তার কাছে জন্মভূমি ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ এসেছিল। তাকে চার থেকে পাঁচদিনের জন্য একটি চরিত্রে অভিনয় করার কথা বলা হয়েছিল। তবে তিনি জানতেন না এই কয়েকটি দিনের চরিত্র পাঁচ বছরের জন্য হয়ে যাবে। জন্মভূমি ধারাবাহীকে অভিনয়ের পর তাকে কিন্তু আর কখনো পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ধারাবাহিকে কখনো পজিটিভ কখনো নেগেটিভ চরিত্রে দেখা গিয়েছে চৈতালিকে। আজ এই বয়সে পৌঁছেও কিন্তু ঠিক আগের মতোই সমানতালে অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনেত্রী।

তার অভিনয়ের প্রতিভা থেকে শুরু করে যে কোন চরিত্রে সহজ আর সাবলীল অভিনয়ের দক্ষতা কোনোটাতেই কিন্তু কোন রকমের খামতি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে আপনারা জানেন কি জীবনে অনেকটা লড়াইয়ের মাধ্যমে এই জায়গাতে এসেছেন চৈতালি। যখন ক্লাস টুয়েলভে পড়ার সময়ে চৈতালী নিজের বাবার কাছে অভিনয় করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, তখন তার বাবা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন শাঁওলী মিত্রের কাছে। কিন্তু সেখানে তাকে প্রথমেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। টানা ৫ বছর বসিয়ে রাখা হয়েছিল তাঁকে। সেখানে তিনি শতরঞ্চি গোটাতেন আর বাকি ফাই ফরমাস খাটতেন।

এরকম ভাবেই বহু বছর তার সময় কেটে গিয়েছে। তবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আশা কিন্তু কখনোই ছেড়ে দেননি তিনি। ছাত্রী হিসেবে তাকে মেধাবী বলা যায়। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। তার অভিনয় দেখে বন্ধুরা বলেছিল ‘১০ বছর আগে ভীড়ে অভিনয় কর’। আর তারপরেই অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তিন পয়সার পালা’ নাটকে নায়িকা হয়ে পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি। এরপর অশোক মুখোপাধ্যায় ‘একা এবং একাকিনি’ নাটকে অভিনয় করে ওয়েস্ট বেঙ্গল গভমেন্টের বেস্ট এক্ট্রেস আওয়ার্ড পেয়েছিলেন তিনি।

মজাদার ব্যাপার কি জানেন? এখনো পর্যন্ত বেশিরভাগ চরিত্রগুলিতে রাক্ষসী ,পেত্নীদের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন চৈতালি। তাই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই কিন্তু রাক্ষসী বলে ডেকে থাকেন তাকে। একবার এক সহকর্মী তাকে ‘রাক্ষসী’ বলে আওয়াজ দিতেই তিনি বলেছিলেন ‘ভাগ্যিস,ঐজন্য রোজ কাজ করি’। তো কেমন লাগলো চৈতালি চক্রবতীর এই জীবনের গল্প অবশ্যই শেয়ার করে নিতে পারেন আমাদের সঙ্গে কমেন্ট বক্সে। বিনোদন জগত সম্পর্কিত সমস্ত ধরনের আপডেট পেতে চাইলে আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদন গুলির উপর নজর রাখতে থাকুন।

Back to top button