নিরামিষের দিনে বাড়িতেই খুব সহজ এই পদ্ধতিতে বানিয়ে দেখুন সুস্বাদু পাঁচমিশালি সবজির ছক্কা, খাবেন পুরো চেটেপুটে!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- বাঙালি ভোজন রসিক জাতি। প্রথম থেকেই কিন্তু বাঙালিরা খাবারে নানান ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসে। পুজো পার্বন বা যে কোন অনুষ্ঠানেই নিত্যনতুন রান্না ছাড়া যেন চলে না। বাড়িতে কোন অতিথি আসলেও চলে জাঁকজমক সহকারে খাবার তৈরীর আয়োজন। এই সবকিছুর মাঝেই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের জন্য একটি অসাধারণ রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি।

এই রেসিপিটি হল নিরামিষ পাঁচমিশালী সবজির ছক্কা। যেকোনো নিরামিষের দিনে বা ঠাকুরের ভোগ নিবেদন করার জন্য কিন্তু আপনারা খুব সহজেই এই পাঁচমিশালী সবজির ছক্কা তৈরি করে নিতে পারেন। খেতে দারুন সুস্বাদু হয়ে থাকে, চলুন তাহলে আর দেরি না করে কিভাবে এই রেসিপিটি তৈরি করবেন সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

নিরামিষ পাঁচমিশালী ছক্কার রেসিপি:
এই রেসিপিটি তৈরি করার জন্য প্রথমেই আমাদের বিশেষ কয়েকটি সবজির প্রয়োজন হবে। প্রথমেই বলব পটলের কথা। আপনাদের একেবারে খোসা ছাড়িয়ে পাতলা করে পটল কেটে রাখতে হবে। এরপর প্রয়োজন হবে যথাক্রমে কুমড়ো, আলু, বরবটি, বেগুন, গাজর আর ঝিঙে। এছাড়াও লাগবে বাঁধাকপি, লাল ডাটা। চাইলে আপনারা আরো কমবেশি দু একটি সবজি এখানে যোগ করে দিতে পারেন তাতে কোন অসুবিধা নেই।

দ্বিতীয় ধাপে আমাদের কড়াইতে পরিমাণ মতন তেল দিয়ে তা ভালো করে গরম করে নিতে হবে। এই রান্নাতে কিন্তু আপনারা অবশ্যই সরষের তেল ব্যবহার করবেন। তেল গরম হয়ে গেলে এতে দুটি তেজপাতা এক টেবিল চামচ পাঁচফোড়ন আর কয়েকটি শুকনো লঙ্কা দিয়ে দিতে হবে। পাঁচফোড়ন কিন্তু একটু বেশি করে দিলেই ভালো হয় কারণ এই সবজিতে পাঁচফোড়নের ফ্লেভার খুব ভালো লাগে।

ফোড়ন দেওয়া হয়ে গেলে মধ্যে কেটে রাখা আলু আর পটল গুলিকে দিয়ে দিতে হবে। মোটামুটি এক থেকে দেড় মিনিট আলু আর পটলগুলিকে নাড়াচাড়া করে কষিয়ে নিতে হবে। এরপর তার মধ্যে দিয়ে দিতে হবে কেটে রাখা ডাটা। এরপর যে সমস্ত সবজিগুলি সেদ্ধ হতে তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে সেগুলি আপনাদের পরপর এখানে দিয়ে যেতে হবে।

কুমড়ো, গাজর থেকে শুরু করে বরবটি সব কিছুই এর মধ্যে যোগ করে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকুন। ভালো করে সবজিকে কিন্তু আপনাদের এই সময়ে মিডিয়াম টু হাই ফ্লেমে কষিয়ে নিতে হবে। এই সময় কিন্তু লবণ দেবেন না কারণ লবণ দিলে সবজি থেকে জল বের হয়ে যাবে। জল বের হয়ে গেলে সবজি কিন্তু আর ভালো করে কষানো যাবে না। এরপর সবশেষে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে ঝিঙে বাঁধাকপি এবং কেটে রাখা বেগুন।

বেগুন যেহেতু সবথেকে নরম সবজি তাই এটিকে আপনারা সব থেকে শেষে কড়াইতে দেবেন। এবার কষানো হয়ে গেলে এখানে স্বাদমতো লবণ আর হাফ চামচের একটু বেশি হলুদ গুঁড়ো যোগ করে দিতে হবে। লবন আর হলুদ দিয়ে আবারো কিছুক্ষণ সবজিগুলোকে কিন্তু কষিয়ে নিতে হবে। এতে সবজি থেকে দেখবেন ধীরে ধীরে জল বের হতে শুরু হয়ে গিয়েছে এবং সেই জল দিয়ে এই সবজি রান্না হবে। এই পর্যায়ে আপনাদের রান্নার মধ্যে মিশিয়ে দিতে হবে ছোলা যাতে এটি একবারেই সেদ্ধ হয়ে যায়।

সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশে গেলে এর মধ্যে হাফ ইঞ্চি পরিমাণ গ্রেট করা আদা, কয়েকটি চেরা কাঁচালঙ্কা, হাফ চামচ জিরে এবং ধনে গুঁড়ো যোগ করে ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে। সম্পূর্ণ সবজি কষিয়ে নেওয়ার পরেই কিন্তু আপনারা আদা দেবেন যাতে এর ফ্লেভার খুব ভালোভাবে পাওয়া যায়। সবজিগুলোকে কষানো হয়ে গেলে এতে সামান্য পরিমাণে লাল লঙ্কার গুঁড়ো যোগ করে দিতে হবে। ঝাল খাওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী লঙ্কার গুঁড়ো কমবেশি করে নিতে পারেন।

তারপর ঢাকা দিয়ে কিছুক্ষণ ভালো করে সবজি সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর কয়েকটি টমেটোর টুকরো আর সামান্য পরিমাণে চিনি রান্নাতে দিয়ে দিন। টমেটো যদি আপনারা প্রথমেই দেন তাহলে কিন্তু সবজি সেদ্ধ হতে চাইবে না ,তাই এটি শেষে দেবেন। এই রান্নাটা একটু মিষ্টি হলে খেতে ভালো লাগে তাই চিনি দিতে কিন্তু অবশ্যই ভুলে যাবেন না। এবারে হাফ কাপ জল দিয়ে সমস্ত রান্নাটিকে ঢাকা দিয়ে রেখে দিন কিছুক্ষণ। অন্যদিকে আপনাদের একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে একটি তেজপাতা, একটি শুকনো লাল লঙ্কা , একটি ছোট এলাচ , এক চামচ গোটা জিরে এবং এক চামচ গোটা ধনে ।

এবার ভালো করে এগুলিকে ড্রাই রোস্ট করে নিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে চীনা বাদাম তেল দিয়ে ভেজে নিন। তারপর সবজির ঢাকনা খুলে তার মধ্যে এই মসলাগুলো আর চীনে বাদাম গুলিকে দিয়ে মিনিট পাঁচ এক সময় নাড়াচাড়া করে গরম গরম নামিয়ে নিন।

পাঁচমিশালী এই সবজি কিন্তু খুব সহজেই আপনারা গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করতে পারেন বা ঠাকুরের ভোগ হিসেবে নিবেদন করতে পারেন। রেসিপিটি কেমন লাগলো তা অবশ্যই একটি মন্তব্যের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না ।

Leave a Comment