“পদবীতে কিছু এসে যায় না! আমি তো চেঞ্জ করিনি!”, বিয়ের পর মেয়েদের পদবী বদল নিয়ে এবার বিস্ফোরক ইন্দ্রাণী হালদার

নিজস্ব প্রতিবেদন: টলিউড ইন্ডাস্ট্রির একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন ইন্দ্রানী হালদার। দীর্ঘ সময় ধরেই অভিনয় জগতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন এই নায়িকা। ৯০ দশকে একের পর এক সুপারহিট সিনেমায় দেখা গিয়েছে তাকে। সম্প্রতি কিছু সময় আগেই স্টার জলসার পর্দায় তার শ্রীময়ী ধারাবাহিক মানুষের মধ্যে রীতিমতো একপ্রকার আলাদা উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল।

এই ধারাবাহিকে একজন স্বাধীনচেতা নারীর চরিত্রে তিনি যেভাবে নিজের অভিনয় সহজ আর সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা এখনো কিন্তু দর্শক ভুলতে পারেননি।। ধারাবাহিকটি বেশ কয়েক মাস হল শেষ হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি এই সবকিছুর মাঝেই বিয়ের পর মেয়েদের পদবী বদল করা উচিত কি উচিত নয় এই প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি বলেছেন এই অভিনেত্রী।

অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদারের কথায়, “পদবীতে কি রয়েছে? কিছুই নেই। পদবী তো যেটা ইচ্ছে সেটাই ব্যবহার করা উচিত। আমি তো ভাই নিজের পদবী পাল্টায়নি। আমি ইন্দ্রানী হালদার ছিলাম আর তাই আছি। আমি ইন্দ্রানী রায় করতে পারিনি। শুধু পাসপোর্টে আছে ইন্দ্রানী হালদার রায়। তবে বাদবাকি সবকিছুতেই রয়েছে ইন্দ্রানী হালদার। সত্যি আমাদের টাইটেল টাই কি সব?

তাহলে এই যে আমার বাপের বাড়ি টাইটেল, আমার দাদু বা ঠাকুরদা, আমার বাবা তাদের কি কোন অস্তিত্বই নেই? টাইটেল টাই যদি সব হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমি কেন আমার পূর্ববর্তী পদবী ব্যবহার করতে পারব না? এইটাই আমাদেরকে ভালোভাবে বুঝতে হবে”। সঙ্গে আরো যোগ করে ইন্দ্রানী হালদার বলেন, “আমাদের মায়েদের প্রজন্মে কি হতো কোন একটা ব্যাপার যদি একবার মাথায় ঢুকে যেত, সেটা কিন্তু তারা করেই ছাড়তো।

সেটা নিয়ে সংসারে অশান্তি বাঁধবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অশান্তি কাটিয়ে সমস্ত জাল ছিড়ে ফেলে কিভাবে মিতালী সেন মিতালী হালদার হয়ে ওঠে সেটাই আমাদের সিনেমার গল্প”। প্রসঙ্গত সম্প্রতি কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে ইন্দ্রানী হালদার অভিনীত ছবি কুলের আচার। এই ছবির প্রচার করতে এসেই এই বক্তব্যটি রেখেছিলেন নায়িকা।শুধু বাঙালি নয় ভারতীয় বিবাহ নামক প্রথায় বিয়ের পর মেয়েদের পদবি বদলটাই নাকি শাস্ত্রীয় নীতি।

কিন্তু আসল সত্যটি হল, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের চেষ্টায় স্ত্রীর প্রতি পুরুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই পদবি পরিবর্তনের এই প্রথা। বলা হয়, গোত্রান্তর হয়ে গেলে স্বামীর পদবিই স্ত্রীর প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রামায়ণ-মহাভারতের কোনও চরিত্রের কোনও পদবি তো নেই!

সেই অনুযায়ী গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে কুলের আচার ছবিটি। ছবিতে দেখা যায়, বিক্রম (প্রীতম) এবং মধুমিতা (মিঠি) দু’জনেই আধুনিক মনষ্ক তরুণ-তরুণী। ভালবেসে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর পদবি বদলাতে চায় না মিঠি। এই সিদ্ধান্তে তাঁর স্বামী প্রীতমেরও সায় রয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে এনিয়ে কোনও ঝামেলাও ছিল না। কিন্তু মিঠির শাশুড়ি মিতালি (ইন্দ্রাণী হালদার) হঠাৎই সিদ্ধান্ত নেন তিনিও এত বছর পরে আবার পুরনো পদবি ব্যবহার করবেন।

ব্যাস তারপরেই ঘটে যাবতীয় বিপত্তি। এ ছবির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর আবার মৈনাক ভৌমিক। তাঁর ছোঁয়ায় পরিচালক সুদীপ দাস প্রায় গোটা চিত্রনাট্যটিকে সুন্দরভাবে পরিবেশন করেছেন। ইন্দ্রানী হালদার ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, মধুমিতা সরকার, সুজন মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।

Back to top button