নিউজসৌভাগ্যের দিশারী

গোটা কাশ্মীরকে রক্ষা করেন মা ক্ষীর ভবানী, স্বয়ং বজরংবলী নিজেই করেছিলেন এই দেবী মূর্তির স্থাপনা!

নিজস্ব প্রতিবেদন :-
আমাদের ভারতের পুরাণ গ্রন্থে এমন বেশ কিছু মন্দির বা দেবদেবীর উল্লেখ আছে যারা আজও মানুষের মনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে আছে শুধুমাত্র চমৎকার এবং আস্থার জন্য। ঠিক সেরকমই ভারতের উত্তর সীমান্তে অর্থাৎ কাশ্মীরে একটি মন্দির আছে যে মন্দিরের প্রতিনিয়ত রক্ষা করে চলেছেন কাশ্মীরের বাসিন্দাদের ।কাশ্মীরের গালগন্দর এ অবস্থিত এই মন্দিরটি নাম ক্ষীর ভবানী মন্দির । ইতিহাসে এই মন্দিরের উল্লেখ আছে ।

এই মন্দিরের সাথে সেখানকার পুরোহিতের আবেগ এর সাথে জড়িয়ে আছে পরম্পরা । তার সাথে সকল গ্রামবাসীর জড়িয়ে আছে আস্থা-বিশ্বাস। যে কোন বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন এই মা ক্ষীর ভবানী । এর পাশাপাশি এই মন্দির কে ঘিরে বেশ পৌরাণিক একটি গল্প । বিশেষ ধরনের গাছ এবং নদী দিয়ে ঘেরা এই মন্দিরের প্রচুর সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয় প্রতিবছর । কথিত আছে সবাই খালি পায়ে মন্দির দর্শন করতে আসেন । পুরুষেরা সেই নদীতে স্নান করেন এবং ক্ষির তৈরি করেন। সেই ক্ষির ভোগ হিসেবে বিতরণ করা হয় ।

ক্ষীর ভবানি মন্দিরে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন হয়। এখানে অনুষ্ঠিত মেলাটি পারম্পরিক শ্রদ্ধা ও আনন্দের প্রতীক। একে বলা হয় খীর ভবানী মেলা যেখানে দর্শনার্থীরা ধর্মীয় মন্ত্র জপ করার মাঝে মন্দিরে যান এবং দেবীর দর্শন করেন। শোনা যায় এই মন্দির স্থাপন করেছিলেন রামভক্ত হনুমান। রাবণ যখন সীতাকে অপহরণ করেছিলেন তখন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই মন্দিরের দেবী এবং সেই স্থান ত্যাগ করেন । এবং হনুমানকে নির্দেশ দেন দূরে কোথাও দূরে তার মূর্তি স্থাপনের জন্য । তখন হনুমান কাশ্মীরে এই জায়গায় এই মন্দির স্থাপন করেন ।

১৯১২ সালে মহারাজা প্রতাপ সিং দ্বারা হিন্দু দেবীদের মন্দিরের পুননির্মাণ মহারাজা হরি সিং করিয়েছিলেন। সেই বছরেরও ১০ ই জুন জ্যৈষ্ঠ অষ্টমীতে ক্ষীর ভবানীর মেলার আয়োজন হয়েছিল, তখনও প্রচুর ভক্ত মায়ের আশীর্বাদ নিতে আর ওনার দর্শন করতে সেখানে গিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি এর পাশ দিয়ে যে নদী উপত্যকা দিয়ে বয়ে গেছে সেটি একটি আসলে সংকেত নদী। এমনটা মনে করে গ্রামবাসীরা । যদি নদীর জল কালো হয়ে যায় তাহলে কোনো অশনি সংকেত বা কোন খারাপ সময় আসতে চলেছে গ্রামবাসীর । ওপর তখন তারা সজাগ থাকে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button