বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানিয়ে ফেলুন লাউয়ের ইউনিক রেসিপি, যার স্বাদ হয় দুর্দান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদন: লাউ এমন একটি সবজি যা খেতে কম বেশি কিন্তু সকলেই অত্যন্ত পছন্দ করেন। তবে যদি একটু আলাদা ধরনের পদ্ধতিতে আপনারা লাউয়ের তরকারি রান্না করতে পারেন তাহলে কিন্তু বহু দামি খাবার কেও এটা হার মানিয়ে দেবে। লাউয়ের তরকারি যে শুধুমাত্র সুস্বাদু তাই নয় অত্যন্ত পুষ্টিকর। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিতে চলেছি লাউ এর একটি বিশেষ রেসিপি যা, নিঃসন্দেহে আপনাদেরকে অবাক করতে বাধ্য করবে। এই রেসিপিটি জানলে কিন্তু এক থালা ভাত শুধুমাত্র এটা দিয়েই আপনারা শেষ করে ফেলতে পারবেন। চলুন আর দেরি না করে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

লাউয়ের তৈরি বিশেষ রেসিপি:

১) এই রেসিপিটি তৈরি করার জন্য আপনাদের প্রথমে একটি বড় সাইজের লাউ নিয়ে নিতে হবে। ভালো করে এটাকে ধুয়ে ফেলুন। সাধারণত অন্য সময় লাউয়ের তরকারি রান্না করার সময় আমাদের লাউ কেটে নিতে হয়। তবে আজকে কিন্তু এই সমস্ত কিছুই করার প্রয়োজন নেই। বরং তার জায়গায় আপনাদের একটি কাটা চামচ নিয়ে নিতে হবে এবং সেটা দিয়ে লাউয়ের গায়ে ছিদ্র করে দিতে হবে। এরকম ছিদ্র করে দিলে লাউ কিন্তু একেবারে ভেতর থেকে সিদ্ধ আর নরম হয়ে উঠবে।

সম্পূর্ণ লাউয়ের মধ্যে এভাবে ছিদ্র করে নেওয়ার পরে আপনাদের নিয়ে নিতে হবে কিছুটা পরিমাণ দেশি ঘি। তারপর হাতের সাহায্যে এই ঘি নিয়ে লাউয়ের গায়ে আপনাদের মাখিয়ে দিতে হবে। এবার গ্যাস অন করে আপনাদের মিডিয়াম ফ্লেমে রেখে দিতে হবে। তারপর ঠিক যেমনভাবেই আপনারা বেগুন পোড়া তৈরি করেন ঠিক তেমনভাবেই গ্যাসের মধ্যে লাউ রেখে দিতে হবে।

২) একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আপনাদের লাউ রাখতে হবে যাতে এটা ভালো করে পুড়ে যায়। মোটামুটি পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই কিন্তু আপনারা দেখতে পারবেন লাউ ভালোভাবে পুড়ে গিয়েছে। তারপর এটিকে আলাদা একটি পাত্রে তুলে আপনাদের ঠান্ডা করে নিতে হবে।

এবার একটি চাকু ব্যবহার করে আলতো করে ঘষে লাউ এর উপরে থাকা চোকলা আপনাদের তুলে ফেলতে হবে। সম্পূর্ণ লাউ পরিষ্কার করা হয়ে গেলে, যেরকমভাবে সাধারণত আপনারা লাউ কেটে থাকেন, সেভাবেই কেটে নিতে হবে। যেহেতু এটি খুব নরম হয়ে গিয়েছে তাই কিন্তু কাটার সময় আপনাদের কোন সমস্যাই হবে না বলা যায়। যেরকম ভাবে ছোট টুকরো করে লাউ কাটানো দেখা হচ্ছে ঠিক তেমন ভাবেই কেটে ফেলুন।

৩) এবার কড়াইতে তেল গরম করে নিয়ে এক টেবিল চামচ পরিমাণ জিরাহ সামান্য হীং দিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ হালকা আছে ভাজা করে তার মধ্যে আদা আর কাঁচা লঙ্কা কুচি যোগ করে দিতে হবে। আদা আর কাঁচালঙ্কা ব্যবহার করলে কিন্তু একটা খুব সুন্দর ফ্লেভার তৈরি হয়ে যাবে। মিডিয়াম আঁচে গ্যাস রেখে আপনাদের এবার এটাকে ফ্রাই করে নিতে হবে।। এবার এই মিশ্রণের মধ্যেই আগে থেকে কুচিয়ে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিন।যত পর্যন্ত না পেয়াজ ভাজার পরে সোনালী বর্ণ ধারণ করছে ততক্ষণ আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে।। এবার একটি টমেটো পিউরি করে এর মধ্যে দিয়ে দিন।

৪) এবারে আপনাদের এই মিশ্রণের মধ্যে যোগ করে দিতে হবে বিশেষ কিছু মসলা। মসলা হিসেবে আপনাদের নিতে হবে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো, সমপরিমাণ ধনে গুঁড়ো, আধা চামচ পাওভাজি মসলা।যদি পাওভাজি মসলা না থাকে তাহলে অন্য গরম মশলা আপনারা ব্যবহার করতে পারেন। এই মিশ্রণের মধ্যে এবার আপনাদের স্বাদমতো লবণ যোগ করে দিতে হবে। ভালোভাবে আপনাদের এবারের কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করতে হবে। কিছুক্ষণ ভালো করে মসলা মিশিয়ে নিন। যখন মসলা থেকে সামান্য তেল ছাড়তে শুরু করে দেবে তখন এর মধ্যে লাউ গুলিকে দিয়ে দিতে হবে।

যেহেতু লাউ আগে থেকেই রান্না করা রয়েছে তাই খুব একটা কিন্তু বেশি সময় লাগবে না। ভালো করে মশলাগুলোর সাথে লাউ মিশিয়ে নিন।এবার আপনাদের ঠিক যতটা পরিমাণ গ্রেভির প্রয়োজন ঠিক ততটাই কিন্তু জল ঢালবেন। তবে এই রান্নাটি একটু মাখোমাখো হলেই ভালো লাগবে। তারপর একটি ঢাকনার সাহায্যে ভালো করে রান্নাটিকে ঢেকে নিন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না মসলার সাথে লাউ ভালোভাবে মিশে যাচ্ছে অপেক্ষা করতে থাকুন। এবার একেবারে লো ফ্লেমে কিছুক্ষণ রান্না হতে দিন। মোটামুটি মিনিট পাঁচেক সময় পর ঢাকনা খুলে আপনাদের কিছুটা পরিমাণে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

তারপর সবশেষে আপনাদের একটি স্পেশাল তরকা তৈরি করে নিতে হবে। তার জন্য প্যানের মধ্যে কিছুটা পরিমাণ দেশি ঘি দিয়ে দিন। ঘি গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে সামান্য পরিমাণে জিরে,হিং দিয়ে মিশিয়ে নিন। খুবই হালকা আচে আপনাদের এটাকে ভেজে নিতে হবে। তারপর তরকা সামান্য ঠান্ডা হয়ে গেলে এর মধ্যে লাল লঙ্কার গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে। ভালো করে একটু নাড়াচাড়া করে এটাকে লাউয়ের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে। ব্যাস তারপরে আরও এক মিনিট পর্যন্ত সম্পূর্ণ রান্নাটিকে ঢাকা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। স্ট্যান্ডার্ড টাইম পর গ্যাস থেকে নামিয়ে গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করতে পারেন।

Back to top button