ছোটোদের হবে দারুণ পছন্দ! খুব সহজ এই ঘরোয়া উপায়ে বানিয়ে ফেলুন টক, ঝাল, মিষ্টি আলুভাজা চানাচুর

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিকেলের খাবারে কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই কিছু মুখরোচক খেতে পছন্দ করে থাকেন।এই যেমন ধরুন খুব সাধারন মুড়ি চানাচুর। তবে হঠাৎ যদি বাড়িতে এই সমস্ত খাবার শেষ হয়ে যায় এবং আপনাদের কাছে দোকানে যাওয়ার সুবিধা না থাকে সেক্ষেত্রে কি করবেন! আসলে প্রত্যেকটা সমস্যাটি কিন্তু বিকল্প সমাধান থাকে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেব খুব সহজ পদ্ধতিতে বাড়িতে আলুভাজা চানাচুর তৈরি করার পদ্ধতি।

যারা কমবেশি বিকেলের স্ন্যাকস খাওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়ে থাকেন তাদের কিন্তু আর সবিশেষ চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। চলুন তাহলে আর সময় নষ্ট না করে কিভাবে বাড়িতেই আপনারা আলুভাজা চানাচুর তৈরি করে নিতে পারবেন সেই পদ্ধতি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়া যাক।

আলু ভাজা চানাচুর তৈরি করার পদ্ধতি:

১) আলুভাজা চানাচুর তৈরি করার জন্য আপনাদের মোটামুটি চারটে মিডিয়াম সাইজের আলু নিয়ে নিতে হবে। চাইলে আপনারা পরিমাণ কিন্তু কম বেশি করে নিতে পারেন। এবার প্রথমেই ভালো করে আলু গুলিকে ধুয়ে নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এবার গ্রেটারের সাহায্যে আপনারা একেবারে সরু করে আলু  গুলিকে কেটে নিন। গ্ৰেটারের যে বড় দিকটা থাকে সেটার ওপর থেকে নিচের দিকে টানবেন। তাহলে কিন্তু প্রত্যেকটা আলুর কাটিং খুব সুন্দরভাবে এবং একই রকম হবে।

এবার একটা পাত্রের মধ্যে পরিমাণ মতন জল দিয়ে আপনাদের এই আলুর স্লাইস গুলোকে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। বেশ কয়েকবার ধুয়ে নেবেন যাতে জল একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়। এবার জল সমেত কাটা আলুর টুকরো গুলোকে আপনাদের নরমাল ফ্রিজে এক ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ফ্রিজ থেকে এই পাত্রটি বের করে আপনাদের হাতের সাহায্যে ভালো করে জল চিপে আলু গুলিকে অন্য জায়গায় রাখতে হবে।

এভাবে যদি আপনারা জল ঝরিয়ে রাখেন তাহলে কিন্তু আলুভাজা গুলি খুব মুচমুচে তৈরি হবে। আপনারা কিন্তু একবার শুকনো কাপড় দিয়ে হালকা করে আলু ভাজা গুলিকে মুছেও নিতে পারেন যাতে সমস্ত জল টেনে যায়। এবার প্যানে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল দিয়ে আপনাদের ভালো করে আলু গুলিকে ভেজে নিতে হবে। আলু ভাজার সময় হাইফ্লেমে এটাকে গরম করে নেওয়ার পরে অল্প অল্প করে তেলের মধ্যে দিয়ে দেবেন।

২) আলু কিন্তু খুব বেশি লাল করে ভাজার দরকার নেই। খুব বেশি লাল করে ভাজলে আলু পুড়ে যাবে এবং এর স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরপর একটা বড় থালার উপরে কিচেন টিস্যু রেখে তাতে আলু ভাজা গুলিকে ছড়িয়ে দিন। সব আলু ভেজে নেওয়ার পর ওই একই তেলের মধ্যে আপনাদেরকে কিছুটা পরিমাণ আমন্ড বাদাম ভেজে নিতে হবে।

যেহেতু আলু ভাজা চানাচুর বানানো হচ্ছে তাই এর মধ্যে কিছু ড্রাই ফ্রুট যোগ করতে পারবেন। আমন্ড ভাজা হয়ে গেলে ওই একই তেলের মধ্যে আপনাদের দিয়ে দিতে হবে কিছু কাজুর টুকরো এবং কিসমিস। অবশ্যই একটা ভাজা হয়ে গেলে তারপর সেটাকে তুলে নিয়ে অন্যটি ভাজবেন। এছাড়াও আপনাদের ভেজে নিতে হবে কিছুটা পরিমাণ কারিপাতা আর এক মুঠো চিনেবাদাম। চানাচুরে কিন্তু কারি পাতার ফ্লেভার খেতে দারুন লাগে।

৩) সবশেষে ওই একই তেলের মধ্যে আপনাদের কয়েকটি শুকনো লঙ্কা ভেজে নিতে হবে। এবার এই সমস্ত উপকরণ ভাজা হয়ে গেলে সেগুলোর উপরে কয়েকটি মসলা আপনাদের যোগ করে দিতে হবে। মসলা হিসেবে যোগ করুন এক চা চামচ চাট মসলা, হাফ চামচ পরিমাণে গোল মরিচের গুঁড়ো,দেড় টেবিল চামচ পরিমাণে গুড়ো চিনি এবং খুব সামান্য পরিমাণে লবণ।

অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে আপনারা যতটা পরিমাণ চানাচুর বানাতে চাইছেন তার উপরে কিন্তু মসলার পরিমাণ নির্ভর করবে। ব্যস এবার আলতো হাতে সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে আপনাদের অসাধারণ স্বাদের আলু ভাজা চানাচুর। বেশ কিছুদিন পর্যন্ত আপনারা এই চানাচুর কিন্তু সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।।

Back to top button