ছাদের টবে এই সহজ ঘরোয়া উপায়ে করুন ঝিঙে চাষ, অল্পসময়ে পাবেন অধিক ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের চারপাশে বহু মানুষ রয়েছেন যারা কিন্তু বাগান করতে ভীষণ রকমের ভালোবাসেন। শুধুমাত্র ফুল বা ফলের গাছ নয় অনেকেই কিন্তু বাড়িতে তাজা শাকসবজি চাষ করে সেটাকেই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই বাইরে চাষ করা সবজির মধ্যে কিন্তু নানান ধরনের সার এবং কীটনাশক মেশানো হয়ে থাকে।

তাই যারা বাড়িতে শাকসবজি চাষ করে সেগুলিকে ভক্ষণ করেন তাদের কিন্তু কোন রকমের রাসায়নিক শরীরে যাওয়ার সমস্যা থাকে না। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে খুবই সহজ আর সাধারণ পদ্ধতিতে বাড়ির বাগানে কিভাবে ঝিঙে চাষ করে নিতে পারেন সেই সম্পর্কে আলোচনা করতে চলেছি। যদি আপনিও এই সবজিটি খেতে পছন্দ করে থাকেন তাহলে কিন্তু আমাদের প্রতিবেদনটি মিস করবেন না। চলুন তাহলে আর দেরি না করে প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।

ঝিঙের বীজ রোপনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ:

ঝিঙে চাষ করতে গেলে আপনাদের প্রথমেই উপকরণ হিসেবে বীজ,মাটি কম্পোস্ট,পাত্র ও জল নিয়ে নিতে হবে। অবশ্যই মাথায় রাখবেন যাতে বীজ ভালো প্রজাতির হয়।নয়তো গাছের চারা বেড়ানোর সময় সমস্যা হতে পারে। আসলে গাছের বীজ যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিন্তু কোন মতেই গাছ সঠিকভাবে বৃদ্ধি পায় না বা অঙ্কুরোদগম হয় না। সুতরাং যে কোন চাষ শুরু করার আগেই কিন্তু আপনাদের এই ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে।ঝিঙে বীজ কিনতে এখানে-সেখানে না গিয়ে যেকোনো বীজের দোকানে যেতে পারেন, কারণ বীজের দোকানে ভালো মানের বীজ সহজেই পাওয়া যায়।

বীজ রোপন করার পদ্ধতি:

রোপন করার জন্য আপনারা যে মাটি ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই আপনাদের ভালো করে ভেঙে রোদে রাখতে হবে। একদিন এই অবস্থায় রাখার পরে আপনাদের এর মধ্যে ভালো করে কম্পোস্ট মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর ভালো করে মাটি দিয়ে আবার সমান করুন। তারপর ঝিঙের বীজগুলিকে মাটি থেকে মোটামুটি দুই ইঞ্চি গভীরে রোপন করুন। বীজ মাটিতে লাগানোর পর কিন্তু অবশ্যই আপনারা ভালো করে জল দিতে ভুলবেন না। এটা ভীষণ প্রয়োজনীয় একটা পর্যায়। উল্লেখ্য মাটিতে প্রায় ৫০% কোকো-পিট এবং ৫০% ভার্মিকম্পোস্ট (মাটির সার বা গোবর) মেশাতে পারেন।

প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে:

যখন ঝিঙের বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম শুরু হয়ে যাবে তখন কিন্তু আপনাদের এর পরিচর্যা আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে। যেহেতু আপনারা এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবেন তাই অবশ্যই কোন রকমের রাসায়নিক নয় বাড়িতে তৈরি কীটনাশক এটাতে স্প্রে করার চেষ্টা করুন। রাসায়নিক বোঝাই কীটনাশক যদি আপনারা সব সময় ব্যবহার করার কথা ভাবেন বা চেষ্টা করেন তাহলে কিন্তু শুধুমাত্র এগুলি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে আপনাদের শরীরের ক্ষতি হবে এমনটাই নয়, গাছ কিন্তু মরেও যেতে পারে।লেবু, বেকিং সোডা, ভিনেগার প্রভৃতি মিশিয়ে গাছের স্প্রে করতে পারেন।

পাত্রের পাশে কাঠ রেখে দিন:

চারা বেরানোর পর যখন ধীরে ধীরে গাছ বাড়তে শুরু করবে তখন,পাত্রের পাশের মাটিতে কাঠ দিয়ে দিন যাতে গাছটি তার শিকড় ভালোভাবে ছড়িয়ে দিতে পারে। কাঠ লাগানোর পর এদিক-ওদিক দড়ি বেঁধে দেওয়া যেতে পারে যাতে ফল নিচে না পড়ে। ব্যাস উপরিউক্ত কয়েকটি স্টেপ ফলো করলেই আপনাদের ঝিঙে গাছের বাম্পার ফলন কেউ আটকাতে পারবেনা। খুব সহজেই যেমন আপনারা এই সবজি বাড়িতে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন ঠিক তেমনভাবেই এটাকে প্রয়োজনে বাজারে বিক্রিও করতে পারবেন। অর্থাৎ খাদ্যের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি এটা আপনাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধিতে ও সাহায্য করতে পারে।

Back to top button