“কাজ পাওয়া আমার এখন ভাগ্যের ব্যাপার!”, টলিউডে কাজ না পেয়ে ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী তৃণা সাহা

নিজস্ব প্রতিবেদন: টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় আর পরিচিত মুখ তৃণা সাহা। দীর্ঘ সময় ধরেই বাংলা টেলিভিশনে কাজ করছেন তৃণা। কলের বউ থেকে শুরু করে খড়কুটো প্রত্যেকটি ধারাবাহিকেই কিন্তু তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনেও অত্যন্ত খোলামেলা এই অভিনেত্রী। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তে একটিভ থাকার কারণে তার ব্যক্তিগত বা সোশ্যাল লাইফের বিভিন্ন ঘটনা কিন্তু খুব সহজেই ভক্তদের সামনে চলে আসে।

কিন্তু তারপরেও তাকে নিয়ে সম্প্রতি অনেক ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল। কখনো তার ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে আবার কখনো বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া নিয়ে গুজব কম হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য খরকুটো ধারাবাহিকের অভিনয় করাকালীন গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অপর এক অভিনেতা নীল ভট্টাচার্যকে বিয়ে করেছিলেন তৃনা। দীর্ঘ সময়ের প্রেম সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সেটাই বিয়ের মাধ্যমে পরিণতি পায়।

তারপর কিন্তু কাজ আর সংসার দুটোই জমিয়ে করছেন তৃনা। সম্প্রতি কিছুদিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে তৃণা সাহা অভিনীত খড়কুটো ধারাবাহিক। এরপর এখনো পর্যন্ত কিন্তু অন্য কোন ধারাবাহিকে এই অভিনেত্রীকে দেখা যায়নি। যদিও অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন পুরোটাই সময়ের অপেক্ষা। তবে এবারে নিজের কাজ পাওয়া ও না পাওয়া নিয়ে একেবারে অকপট স্বীকারোক্তি দিলেন অভিনেত্রী। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি বলেছেন তিনি!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বর্তমানে একটি মিউজিক ভিডিওর জন্য কাজ করছেন তৃনা সাহা। ভিডিওতে অভিনেত্রীর বিপরীতে কাজ করছেন গায়ক শান। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই শানকে নিয়ে প্রশংসা করেন নায়িকা। জানান তিনি খুব খুশি তাকে নিজের বিপরীতে নায়ক হিসেবে পেয়ে। এরকম উদ্যমে ভরপুর আর এনার্জি ঠিক অভিনেতা বা গায়ক খুব কমই দেখা যায়।

এরপরই তৃনাকে যখন প্রশ্ন করা হয় কাজ পাওয়া নিয়ে তখন স্পষ্টই অভিনেত্রী জানান, “কাজ পাওয়াটাকে আমি আশীর্বাদ বলে মনে করি। এটা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। আপনাদের নিশ্চয়ই ভালোবাসা আছে, আশীর্বাদ আছে। সেটার জন্যই আমি কাজ পাচ্ছি। যে কদিন আমি কাজ পাব ততদিন আমি প্রায় ৫০০ শতাংশ দিয়ে চেষ্টা করব ভালোভাবে কাজ করে যাওয়ার। সবরকমভাবে মনোযোগ সহকারে চেষ্টা করব আপনাদের বিনোদন দেওয়ার। যখন কাজ আছে আছে, যখন নেই তো নেই”।

এরপরেই অভিনেত্রীকে যখন তার দুর্গাপুজোর প্ল্যানিং নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তৃণা বলেন, “আমি মনে করি কলকাতা ছেড়ে পুজোতে বাইরে যাওয়াটা একটা ক্রাইম। লোকেরা বাইরে থেকে কলকাতায় পূজো দেখতে আসে। কলকাতাতেই থাকবো। কোন রকমের রুলস আর রেগুলেশন নেই। শুধুমাত্র জমিয়ে আনন্দ করবো আর যা খুশি তাই করবো, যা ইচ্ছে তাই খাব”। যাই হোক না কেন কাজ পাওয়া নিয়ে একেবারে স্পষ্ট বক্তব্য শুনে কিন্তু অনেকেই তৃণা সাহার প্রশংসা করেছেন।

এমনিতেও খড়কুটো ধারাবাহীকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি যেভাবে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন তা ধারাবাহিক শেষের পর সহজেই বোঝা গিয়েছিল। ধারাবাহিকের শেষে দেখানো হয়েছিল ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গুনগুন অর্থাৎ তৃণা মারা যায়। তবে শেষে গুনগুনের মৃত্যু কিন্তু মেনে নিতে পারেননি খরকুটো ভক্তরা। বেশ কিছুদিন পর্যন্ত নির্মাতাদের এই কারণে সমালোচনা শুনতে হয়েছিল।

Leave a Comment