হাত ও পায়ের কালো দাগ দূর করুন নিমিষে, রইলো দারুন কার্যকরী ঘরোয়া টিপস!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের হাত-পায়ে এক ধরনের কালচে দাগ বা কালচে ভাব দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ত্বক রোদে পুড়ে গেলে কিংবা ধুলোবালির মধ্যে থাকলে কিন্তু এই ধরনের ঘটনা বেশি হয়। আমরা আজকাল বাজার চলতি নানান ধরনের ক্রিম বা রোশান ব্যবহার করে থাকি এই হাত পায়ের কালো ভাব দূর করার জন্য।

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাতে বহু টাকা খরচ হলেও খুব একটা কাজ হয় না। তাই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এমন কিছু রেমেডি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিতে চলেছি যা স্নানের আগে তিন দিন লাগালে কিন্তু আপনার হাত ও পা একেবারে ফর্সা চকচকে হয়ে উঠবে। সকল বয়সের মহিলারাই এটি বাড়িতে কিন্তু ট্রাই করতে পারেন, তাতে কোন সমস্যা নেই। 

  • হাত পায়ের কালো দাগ দূর করার বিশেষ কিছু রেমেডি:

হাত ও পায়ের কালো দাগ দূর করার জন্য আপনাদের প্রথমেই ভাল করে হাত পা গরম জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় হাত ও পায়ে বেশি লোম থাকলেও কিন্তু কালচে ভাব সৃষ্টি হয়। চাইলে যে কোন ওয়াক্সিং ক্রিম বা রেজার এর সাহায্যে আপনারা কিন্তু এই লোম যতটা সম্ভব তুলে নেবেন। এবারে আমাদের যে কাজটি করতে হবে তা হলো একটি পাত্রের মধ্যে সামান্য পরিমাণ চিনি নিয়ে নিতে হবে।

তারপর চিনির মধ্যে কিছুটা পরিমাণ কফি পাউডার আর নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। কফি পাউডার আমাদের ত্বককে পরিষ্কার করতে বা এক্সপোলিয়েট করতে খুব সহজেই সাহায্য করে থাকে।

এবারে এই স্ক্রাবটিকে ভালো করে সম্পূর্ণ ত্বকে ভালোভাবে ঘষে নিতে থাকুন। বেশ কিছুক্ষণ এরকম করার পর স্ক্রাব শুকিয়ে গেলে ভালোভাবে আপনারা জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

দ্বিতীয় ধাপে আমাদের ত্বকের জন্য একটি বিশেষ প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই বিশেষ প্যাক তৈরির জন্য আমরা নিয়ে নেব টুথপেস্ট। এই টুথপেস্ট আমাদের রোদে পড়ার ট্যান বা কালো ছোপ তুলতে খুব সহজেই সাহায্য করবে। তার জন্য আপনাদের টুথপেস্ট এর মধ্যে কিছুটা পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণ থেকে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে আপনারা এর মধ্যে বেকিং পাউডার বা বেকিং সোডা মিশিয়ে নিতে পারেন।

বেকিং পাউডার বা বেকিং সোডা নোংরা ময়লা খুব সহজেই তুলে দিতে পারে। এই প্যাকের কোনরকমের স্পার্শ প্রতিক্রিয়া নেই অর্থাৎ খুব সহজেই আপনারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন। এটাকে স্কিন হোয়াইটনিং প্যাক বলা যেতে পারে। অন্ততপক্ষে সপ্তাহে একদিন আপনাদের এই প্যাক ব্যবহার করতেই হবে।

স্ক্রাব করার পর এই প্যাক আপনার ত্বকের যে সমস্ত জায়গায় কালচে দাগ হয়ে আছে সেই সব জায়গায় লাগিয়ে নিন। তবে ১০ থেকে ১২ বছরের নিচে যাদের বয়স তারা কিন্তু এই রেমিডি ট্রাই না করাই ভালো। প্যাক লাগানোর পর প্রায় ১০ মিনিট সময় পর্যন্ত আপনাদের অপেক্ষা করে এটি শুকিয়ে যাওয়ার পর জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। সবশেষে আপনাদের ব্যবহার করতে হবে একটি যেকোনো কোম্পানির ময়শ্চারাইজার। তবে শুধু মশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না এর সাথে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল আপনারা মিশিয়ে ভালো করে তা ত্বকে লাগিয়ে নিন।

স্ক্রাব এবং প্যাক ব্যবহার করার পরে যদি আপনারা এভাবে মশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে পারেন তাহলে কিন্তু আপনাদের ত্বকের রুক্ষভাব দূর হয়ে যাবে। যদি আপনাদের ড্রাই স্কিন থাকে তাহলে সেটি সফট হয়ে যাবে।

সুতরাং অবশ্যই এই দুটি প্রোডাক্ট ব্যবহারের পর আপনারা মশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিতে ভুলবেন না। বিশেষ এই রেমিডিটি আপনারা রাতে শোয়ার আগে করার ট্রাই করবেন যাতে সমস্ত রাত ভালোভাবে হাত বা পায়ের উপর এর প্রভাব থাকে।

Back to top button