ঘরোয়া উপায়ে দারুন কৌশলে কাঁচের যে কোনো দাগ তুলে ফেলুন খুব সহজে! রইলো ১০টি কার্যকরী কৌশল!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- বাথরুমের অনেক জায়গাতেই কিন্তু সুন্দর দেখানোর জন্য কাঁচের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া সৌখিনতার জন্য আমরা বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় কাঁচ লাগাই, যেমন সিঁড়ির রেলিং, জানলা ও বিভিন্ন জায়গায়। এই কাচ সুন্দর দেখানোর কাজে ব্যবহার করা হলেও জলের কারণে বা অন্যান্য বিভিন্ন জিনিসের প্রভাবে কিন্তু খুব সহজেই নোংরা হয়ে গিয়ে থাকে। বিশেষ করে বাথরুমে বা বেসিনে কাঁচ লাগালে কিন্তু জলের আস্তরণ পড়াটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর যদি আপনি এই কাজ পরিষ্কার না করে থাকেন তাহলে কিন্তু একটা সময়ের পর এতে দাগ পড়ে যাবে। বাজার চলতি বিভিন্ন জিনিস আপনারা এই দাগ তোলার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তবে আজকে আমরা এমন কিছু উপায় এর কথা বলব যাতে খুব সহজেই কিন্তু বাড়িতে বসেই কয়েকটি ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে এই কাচের দাগ আপনারা তুলে ফেলতে পারেন।

১) ডিশ ওয়াশার লিকুইডের ব্যবহার:

কাচ থেকে দাগ তোলার জন্য আপনারা ডিশওয়াশার লিকুইড ব্যবহার করতে পারেন খুব সহজেই। বাজার চলতি যেকোনো ভালো ব্র্যান্ডের ডিশওয়াশ দিয়ে আপনারা খুব সহজেই এই কাচের উপরের দাগ তুলে ফেলতে পারবেন। এই ডিসওয়াশার যে কাঁচ আপনারা পরিষ্কার করবেন তার মধ্যে কয়েক ফোঁটা দিয়ে দিতে হবে। এরপর আলতো করে স্পঞ্জ এর সাহায্যে ঘষে ফেলুন। এরপর সামান্য জল ব্যবহার করে ধুয়ে মুছে নিলেই কিন্তু কাচ একেবারে নতুনের মতন পরিষ্কার হয়ে যাবে।

২) খবরের কাগজ ব্যবহার করে পরিষ্কার:

আপনারা চাইলে কাচ পরিষ্কার করার কাজে খবরের কাগজ ও ব্যবহার করতে পারেন। তার জন্য আপনাদের কয়েকটি খবরের কাগজ নিয়ে পরিষ্কার জলের মধ্যে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে দিলেই কিন্তু দেখবেন কাগজটি একটা ডেলার মতন তৈরি হয়ে গিয়েছে। তারপর এই ডেলা কাঁচের ওপর ভাল করে বিছিয়ে দিন। খানিক পর ভাল করে কাগজ তুলে ফেলুন। এরপর পরিষ্কার ভিজে কাপড় দিয়ে ভালো করে কাঁচ মুছে নিয়ে হাওয়ায় শুকিয়ে নিলেই কিন্তু দেখবেন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

৩) ভিনিগারের ব্যবহার করে পরিষ্কার:

কাচ থেকে শুরু করে টাইলস সমস্ত কিছুর উপর থেকেই দাগ তোলার জন্য আপনারা ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। ক্লিনিং এর কাজের জন্য কিন্তু ভিনেগার একটি অত্যন্ত উপকারী জিনিস। ভিনিগার আর বেকিং সোডা নিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ কাঁচের ওপর যেখানে জলের দাগ সেখানে দিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর যেকোনো নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে যদি হালকা করে ঘষে নেন তাহলেই কাঁচের উপরে থাকা সমস্ত দাগ কিন্তু ধীরে ধীরে উঠে যাবে।

৪) লেবুর রসের ব্যবহার করে পরিষ্কার:

ভিনেগারের মতোই কাঁচ পরিষ্কার করার কাজে আপনারা কিন্তু লেবুর রসও ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর রস কে প্রাকৃতিক ব্লিচার বলা হয়ে থাকে। যেকোনো দাগ তুলতেই লেবুর রস অত্যন্ত সহজে সাহায্য করে থাকে। সমান অনুপাতে ভিনিগার আর লেবুর রস মিশিয়ে সেই মিশ্রণ একটা স্প্রে বোতলে নিয়ে দাগের জায়গায় স্প্রে করুন। এরপর কুড়ি মিনিট মতন সময় এভাবে রেখে দিয়ে একটি ভিজে কাপড় ব্যবহার করে যদি আপনারা মুছে দিতে পারেন তাহলেই কিন্তু সমস্ত ধরনের দাগ উঠে যাবে। খুবই সহজ একটি পদ্ধতি আপনারা অবশ্যই ট্রাই করে দেখতে পারেন।

৫) নুনের ব্যবহার:

কাঁচের উপরে যে জলের দাগ সেটা খুব সহজেই আপনারা কিন্তু নুন ব্যবহার করে তুলে ফেলতে পারবেন। নুন প্রয়োগ করলে মিনারেলের দাগ কিন্তু সহজেই ভেঙে যায়। জলের মধ্যে কিছুটা পরিমাণ নুন মিশিয়ে আপনারা এক ঘন্টা সময় পর্যন্ত রেখে দিন। তারপর স্প্রে বোতলের সাহায্যে জল নিয়ে কিছুক্ষণ স্প্রে করতে থাকুন। এরপর স্পঞ্জ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ঘষতে থাকুন। ফলাফল আপনারা হাতেনাতেই দেখতে পারবেন। সবশেষে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিলেই কিন্তু দেখবেন কাচ একেবারে নতুনের মতন চকচকে হয়ে গিয়েছে।

৬)অ্যামোনিয়া যুক্ত লিকুইডের ব্যবহার:

প্রথমেই আপনাদের জানিয়ে দিই এই লিকুইড আপনারা কিভাবে সংগ্রহ করবেন। যেকোনো হার্ডওয়ারের দোকানে আপনারা এমোনিয়া যুক্ত লিকুইড কিনতে পেয়ে যাবেন। তবে এই লিকুইডের মধ্যে যাতে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেশি থাকে সেদিকে কিন্তু আপনাদের অবশ্যই নজর দিতে হবে। পাশাপাশি এই লিকুইড ব্যবহার করার সময় কিন্তু অবশ্যই আপনারা হাতে গ্লাভস পড়ে নেবেন। ভালো করে এই লিকুইড নোংরা কাঁচের উপরে স্প্রে করে দিতে হবে। মিনিট দশেক সময় এই অবস্থায় রেখে যেকোনো নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে নিলেই কাজ হয়ে যাবে।

৭) টুথপেস্ট ব্যবহার করে পরিষ্কার:

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না কাচের উপর থেকে দাগ তোলার জন্য টুথপেস্ট ঠিক কতটা কার্যকরী হতে পারে।একটি ভিজে কাপড়ের মধ্যে টুথপেস্ট নিয়ে নিন। টুথপেস্টের ওপর অল্প জল লাগিয়ে এই কাপড়টিকে হালকা করে কাচের উপরে ঘষতে থাকুন। সমস্ত দাগ উঠে যাবে আর কোনো রকমের ময়লা ভাব কিন্তু থাকবে না। যদি খুব বেশি কালচে ভাব বা আস্তরণ পড়ে গিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে পরপর দুবার এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

৮)কমার্শিয়াল পেস্ট ক্লিনজার ব্যবহার করে পরিষ্কার:

বাজারের যেকোনো দোকানেই কিন্তু খুব সহজে আপনারা এই ক্লিনজার পেয়ে যাবেন। এটা এমন একটি পেস্ট যা কোন জলীয় দাগ রেখে যায় না। যে কোন সফট টুথব্রাশের মধ্যে এই পেস্ট হালকা করে লাগিয়ে যেখানে দাগ আছে কাঁচের সেই অংশে ঘষতে থাকুন দেখবেন সমস্ত দাগ চলে গেছে। সবশেষে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই কাজ হয়ে যাবে। কোন রকমের অতিরিক্ত জল ব্যবহার করার দরকার নেই।

৯)অ্যাসিডিক ক্লিনসার ব্যবহার করে পরিষ্কার:

এই জাতীয় ক্লিনজার ব্যবহার করলে কিন্তু জলের দাগের ভিতরের রাসায়নিক কাঠামো খুব সহজে বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায়। মনে রাখবেন অ্যাসিডিক সলিউশন ব্যবহার করতে বলছি, অ্যাসিড নয়। হাতে গ্লাভস পরে কাঁচে সেই সলিউশন স্প্রে করে কাপড় দিয়ে ঘষে নিন। তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। যেকোনো হার্ডওয়ারের দোকানেই কিন্তু আপনারা এই দ্রবণ সহজেই কিনতে পেরে যাবেন।

১০) রোজকার যত্ন:

অনেক তো হলো বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার! সবশেষে আমরা বলবো, রোজকার যত্নের কথা। যে কোন জিনিস যদি রোজ যত্ন না করা হয় তাহলে কিন্তু হাজার পরিস্কার করলেও সেটা আর সারাজীবন ভালোভাবে থাকে না। রোজ কাঁচ জল ন্যাকড়া দিয়ে মুছে নিন। তারপর ভাল করে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে নেওয়াটা কিন্তু খুব ভাল করে হতে হবে। না হলে দাগ হতে থাকবে। এছাড়াও যদি আপনারা উপরিউক্ত যে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে সপ্তাহে একবার কাঁচ পরিষ্কার করে নিতে পারেন তাহলে আর কোন চিন্তাই থাকবে না।

Back to top button