নিউজসৌভাগ্যের দিশারী

” আজও নবদ্বীপের পোড়ামাতলায় পূজিতা হন ‘মা পোড়ামা ভবানী’! রয়েছে এই নিয়ে অনেক পুরাকথা!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- আমাদের ভারতবর্ষে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও এমন বেশ কিছু বিশেষ জায়গা এদেশে আছে যা শুধু নির্দিষ্ট কোন ধর্মকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কোথাও আবার ধর্ম সমন্বয় গড়ে উঠেছে কোন কোন জায়গা । সেখানকার রীতিনীতি বহু আগে থেকে শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত বিরাজমান। এবং সেই জায়গা ধর্মের ভিত্তিতে পরিচিতি লাভ করছে বা করেছে গোটা পৃথিবীর কাছে। ঠিক সেরকমই ভারতবর্ষে একটি পবিত্র ধর্ম স্থান এর নাম হলো নবদ্বীপ ধাম। যার নাম আমরা অনেকেই কমবেশি শুনেছি।

শ্রী চৈতন্যদেবের বাসভূমি এবং জন্মভূমি হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে এই নবদ্বীপ । নবদ্বীপ আগে ভারতবর্ষের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ছিল । শুধুমাত্র যে হিন্দুধর্ম এখানে প্রচলিত তেমন নয় এর পাশাপাশি মুসলিম ধর্মের প্রথম প্রচলন ঘটে এই নবদ্বীপে। শোনা যায় মহম্মদ-ই-বখতিয়ার এসে লক্ষণ সেন দেবকে পরাজিত করে মুসলমানরা রাজত্ব শুরু করেন।

মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের আবির্ভাব ভূমি এই নবদ্বীপ ধাম পরিচিতি লাভ করে আসছে বহু শতাব্দী আগে থেকেই। শ্রীচৈতন্যের জন্মস্থান বৈষ্ণব ধর্মের প্রবক্তা হিসাবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ার পর নবদ্বীপ প্রধানত বৈষ্ণব তীর্থভূমিতে পরিণত হয়েছে । তবে এর পাশাপাশি এখানে মা ভবতারিণীর পুজো হয়ে থাকে। সে সম্পর্কে পৌরাণিক কাহিনী আছে এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চলেছি ।

পঞ্চদশ শতাব্দীতে বৃহদ্রথ নামে এক তন্ত্রসাধক এখানে বাস করতেন। তিনি সেখানে মা কালীর পুজো করতেন অতি ভক্তি ও নিষ্ঠার সাথে । এই সময় এই জায়গার বিখ্যাত পন্ডিত ছিলেন বাসুদেব, বাসুদেবের পিতামহ ছিলেন বৃহদ্রথ এর মন্ত্র শিষ্য। তিনি দক্ষিণাকালীর ঘটটি এক বৃক্ষের নীচে প্রতিস্থাপন করেন। আস্তে আস্তে সেখানেই ভক্ত সমাগম হয়। কিন্তু এক দিন এক প্রচণ্ড অ-গ্নি-কা-ণ্ডে পু-ড়ে গেল সেই গাছটি। শোনা যায়, বাজ পড়ে নাকি আ-গু-ন লেগে গিয়েছিল ওই বৃক্ষে। সেই থেকেই সেখানকার ভবতারিণী ‘পোড়ামা ভবানী’ নামে পরিচিত । লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে এই পোড়া ভবানী কে কেন্দ্র করে। রীতিমত এখানকার মানুষজনের ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে মায়ের আশীর্বাদ নিতে এবং মাকে দর্শন করতে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button