খাবেন পুরো চেটেপুটে! চিনি ও ফুড কালার ছাড়াই খুব সহজ এই ঘরোয়া উপায়ে বানান আপেল জ্যাম

নিজস্ব প্রতিবেদন: সকালের ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে বাচ্চাদের স্কুলের টিফিন অনেক কিছুতেই কিন্তু জ্যাম খাবার হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে। রুটি থেকে শুরু করে পাউরুটি অনেক কিছুর সাথেই এটাকে খাওয়া যেতে পারে। বাজারের যেকোন দোকানে কিন্তু আপনারা এটাকে কিনতে পেয়ে যাবেন।

আজকাল মানুষ হাতের সময় পেলেই একেবারে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস বা খাবার বানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা একেবারে দোকানের মতন পদ্ধতিতে চিনি আর ফুড কালার ছাড়াই আপেলের জ্যাম কিভাবে তৈরি করা যেতে পারে তা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। চলুন আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

সহজ উপায়ে আপেল জ্যাম তৈরীর পদ্ধতি:

১) জ্যাম তৈরি করার জন্য প্রথমেই বাজার থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আপেল কিনে নিয়ে আসতে হবে এবং সেটাকে ভিনিগার মেশানো জলে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। ভিনেগার মেশানো জলে যদি আপনারা ভালো করে এটাকে ধুয়ে নেন তাহলে আপেলের মধ্যে থাকা কোন রকমের জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া সহজেই চলে যাবে। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে আপনারা হালকা গরম জলে লবণ মিশিয়ে আপেল ধুয়ে নিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু আপেল সংরক্ষণ করা বা তাজা দেখানোর জন্য এর উপরে মোমের প্রলেপ দেওয়া হয়ে থাকে।

সেটি পরীক্ষা করার জন্য আপনারা ভালো করে আপেলের খোসার গায়ে একটু চাকু দিয়ে ঘষে নিতে পারেন। যদি দেখেন সাদা রংয়ের আস্তরণ বেরিয়ে আসছে তাহলে অবশ্যই কিন্তু খোসা কেটে নেবেন। ভালো করে ধুয়ে নেবার পরে আপনাদের প্রথমেই খোসা ছাড়িয়ে ভালো করে আপেল কেটে নিতে হবে। আপেলের মধ্যে যে বীজ থাকবে আপনাদের সেটা কেউ আলাদা করে দিতে হবে।

আপেল টুকরো করে কেটে নেওয়ার পর গ্যাসে একটা পাত্র বসিয়ে সেখানে এক কাপ পরিমাণ জল দিয়ে দিন। এরপর যে আপেলের টুকরো গুলি আপনারা কেটে রেখেছিলেন সেটাকে এই জলের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। তারপর ঢাকনা চাপা দিয়ে মোটামুটি 7 মিনিট সময় পর্যন্ত এটাকে মিডিয়াম ফ্লেমে ফুটিয়ে নিন।

২) মোটামুটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর আপনাদের ঢাকনা খুলে দেখে নিতে হবে আপেল নরম হয়ে গিয়েছে কিনা! এরপর গ্যাস বন্ধ করে এটাকে নামিয়ে রাখুন। এরপর আপেলের যে খোসা গুলি আপনারা কেটে নিয়েছিলেন সেটাকে আপনাদের ভালো করে ধুয়ে হালকা শুকিয়ে নিয়ে কাচের বোতলের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। এরমধ্যে কিছুটা পরিমাণ জল দিয়ে দিন যাতে সম্পূর্ণ খোসাগুলি জলে ডুবে থাকে।

তাতে মোটামুটি দুই টেবিল চামচ পরিমাণ ব্রাউন সুগার মিশিয়ে দিন। এরপর এটাকে একটি কাপড় দিয়ে বন্ধ করে রবার দিয়ে আটকে যে কোন অন্ধকার জায়গায় রেখে দিন। এটা দিয়ে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার তৈরি করা যেতে পারে। অন্যদিকে যে আপেলের টুকরো গুলি কে আপনারা সেদ্ধ করে রেখেছিলেন দেখে নিন সেগুলো ঠান্ডা হয়ে গেছে কিনা। তারপর এটাকে একটি জারের মধ্যে নিয়ে আপনাদের ভালো করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।

৩) আপেলের পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে এটাকে ভালো করে একটা পরিষ্কার পাত্রে নিয়ে নিন। এবার সেই পাত্রটা গ্যাসে বসিয়ে আপনাদের গরম করে নিতে হবে। হালকা গরম হয়ে গেলে এতে এক থেকে আধা কাপ পরিমাণ ব্রাউন সুগার মিশিয়ে দিন। আপনারা চাইলে কিন্তু চিনিও ব্যবহার করতে পারেন তবে যদি ব্রাউন সুগার ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু কোনো রকমের রং ব্যবহার করার দরকার নেই। কারণ ব্রাউন সুগার মেশালেই একটা দারুন কালার এতে চলে আসবে। এরপর মিডিয়াম ফ্লেমে আপনাদের মোটামুটি দশ মিনিট পর্যন্ত এটাকে রান্না করে নিতে হবে।

তারপরেও এটার কনসিসটেন্সি যদি খুব পাতলা থাকে তাহলে আরো মোটামুটি দশ মিনিট আপনাকে রান্না করতে হবে। মোটামুটি পরবর্তী ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিলেই কিন্তু এটা অনেকটাই ঘন হয়ে যাবে। এবার এর মধ্যে এক টেবিল চামচ লেমন জুস যোগ করে দিন। ভালো করে দেখে নিন সম্পূর্ণ জল টেনে নিয়েছে কিনা! ব্যাস তৈরি হয়ে গেল আপনাদের অ্যাপেল জ্যাম। খুব সহজেই এটাকে এয়ার টাইট কন্টেনার বা কাঁচের জারে আপনারা মোটামুটি কয়েক মাস সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

Back to top button