টাকার অভাবে একসময় জোটেনি সিনেমা দেখার টিকিট! বাবাকে নিয়ে গাড়ি গুনেছিলেন শাহরুখ খান

নিজস্ব প্রতিবেদন: কোনরকম গডফাদার ছাড়াই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কিং খান কে চেনেন না এরকম মানুষ হয়তো আমাদের দেশে খুব কমই রয়েছেন।। জীবনে অনেক কষ্ট করে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছেন শাহরুখ। প্রথমে টিভিতে এবং তারপর ধীরে ধীরে সেখান থেকে রূপোলি পর্দায় তার যাত্রাটা কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না।।

আজ যতই দেশের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম নাম হিসেবে শাহরুখের নাম গণ্য করা হোক না কেন একসময় কিন্তু জীবনে প্রচুর পরিমাণে লড়াই করে এই জায়গাতে এসেছেন তিনি। ২০১২ সালের এক সাক্ষাৎকারে বলিউড বাদশা জানিয়েছেন একটা সময় বাবার সঙ্গে দিল্লিতে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে হলে ঢুকতে পারেননি। বাইরে বসে গাড়ি গুনেছিলেন দুজন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের জীবনের কিছু অজানা কথা।

চলুন আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন শুরু করা যাক। প্রথমেই জানিয়ে রাখি মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন শাহরুখ খান। শাহরুখ খানের বাবা তাজমহম্মদ খান ক্যান্সারে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর মা লতিফ ফতিমা খানও দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা যান ১৯৯০ সালে। কেরিয়ারের শুরুর দিকেই প্রেমিকা গৌরী খানকে বিয়ে করেছিলেন শাহরুখ। দীর্ঘ সময় ধরেই তার এই যাত্রাপথের সাক্ষী থেকেছেন গৌরী খান।

তাঁদের তিন সন্তানের নাম যথাক্রমে আরিয়ান, সুহানা আর আব্রাম খান। আজ তারা সকলেই অনেকটা বড় হয়ে গিয়েছে। বৈভবের চূড়ায় বসবাস করলেও শাহরুখের সন্তানরাও হয়তো জানেন না বাবার স্ট্রাগলের কথা। একবার এক সাক্ষাৎকারে কিং খান জানিয়েছিলেন, “আমার মধ্যেই কিছু সমস্যা আছে। আমি সেটা বুঝতেও পারি। কিন্তু সমস্যাটা যে কী সেটাই ধরতে পারি না। আমার একটা সুন্দর পরিবার আছে। কিছু ভালো বন্ধু আছে যাদের সঙ্গে আমি অনেকটা সময় কাটাই।

আমি আমার বাবার মতো করে মরতে চাই না। আমি অচেনা হয়ে মরে যেতে চাই না। আমি তাই শুধু সফল হতে চাই। বিশ্বাস করুন, একদম উপরে আছে একাকিত্ব। একটা খালি খালি বোধ হয় নিজেকে। একটা অস্থিরতা, দম আটকানো পরিস্থিতি কাজ করে মনের ভিতরে, যা আমি অভিনয় দিয়ে পূর্ণ করি”। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি শাহরুখ। সাক্ষাৎকার চলাকালীন তিনি ফিরে যান নিজের অতীতে।

ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করে এই সাক্ষাৎকারে অভিনেতা আরো জানান যে, “একবার বাবা আমায় দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছিল সিনেমা দেখাবে বলে। কিন্তু ওঁনার কাছে যথেষ্ট টাকা ছিল না। আমরা কামানি অডিটোরিয়ামের সামনে বসেছিলাম। আমাকে বাবা বুঝিয়েছিল গাড়ির আসা-যাওয়া দেখতে কত ভালো লাগে। আমি যখন আমার ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বাইরে যাব সিনেমা দেখাতে, তখন যেন আমাকে ওকে গাড়ি দেখাতে না হয়। আমার মনে হয় আমার বাবা ছিল এই দুনিয়ায় সবচেয়ে সফল ব্যর্থ মানুষ, আর আমি ওঁর উপর গর্বিত”।

Back to top button