পেঁয়াজের খোসা কি ফেলে দেন? জানেন পেঁয়াজের খোসার রয়েছে কি জাদুকরী উপকারিতা? জানলে ফেলবেন না কখনও!

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের রান্নাঘরে যে সমস্ত জিনিস প্রতিদিন প্রয়োজন হয় তার মধ্যে সবথেকে উল্লেখ্য হল পেঁয়াজ। সাধারণত পেঁয়াজ ব্যবহার করার পরে কিন্তু আমরা এর খোসা ফেলে দিয়ে থাকি। তবে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না এই পেঁয়াজের খোসা কত কাজে লাগতে পারে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব কিভাবে পেঁয়াজের খোসা ফেলে না দিয়ে তা আপনারা খুব সহজেই গাছের পরিচর্যার কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

১০০ শতাংশ ঠিক যে এই ব্যাপারে কিন্তু অনেকেই বিশেষ কিছু জানেন না। তাহলে চলুন আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি আর দেরি না করে শুরু করা যাক।এখানে আমরা আপনাদের পেঁয়াজের খোসার দুটি ব্যবহার বলবো। এর মধ্যে একটি তরল জৈব সার হিসেবে এবং অপরটি কীটনাশক হিসেবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পেঁয়াজের খোসা থেকে কিন্তু আমরা পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, কপার, ম্যাগনেসিয়াম,আয়রন, সালফার ইত্যাদি উপাদান পেয়ে থাকি। এই সমস্ত উপাদান কিন্তু গাছকে সুস্থ আর সতেজ রাখতে বহু পরিমাণে সাহায্য করে থাকে।

গাছের পরিচর্যায় পেঁয়াজের খোসার ব্যবহার:

তরল জৈব সার হিসেবে:

এক লিটার জলের ক্ষেত্রে আপনাদের ৫০ গ্রাম পরিমাণ পেঁয়াজের খোসা নিয়ে নিতে হবে। সামান্য কমবেশি হলে যদিও সমস্যা নেই তবে মোটামুটি এক লিটার জলের ক্ষেত্রে ৫০ গ্রাম হলে কিন্তু ভালো হয়।। এই খোসাগুলিকে আপনাদের মোটামুটি দুইদিন সময় পর্যন্ত জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পেঁয়াজের খোসা গুলো জলে থাকার কারণে কিন্তু জল একেবারেই লাল হয়ে যাবে।।

এই জল কিন্তু আপনি গাছে খুব সহজেই সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এই জল কিন্তু আপনি সরাসরি গাছে ব্যবহার করতে পারবেন না। এই জল ব্যবহার করতে গেলে কিন্তু আপনাদের নির্দিষ্ট একটি নিয়ম পালন করতে হবে।

গাছে প্রয়োগের নিয়ম:

এই জল গাছে প্রয়োগ করতে গেলে কিন্তু আপনাদের প্রথমেই গাছের গোড়ার অংশের মাটি ভালো করে খুঁড়ে নিতে।  মাটি খুঁড়ে নেওয়ার পরে  দিতে হবে আপনাদের এই জল। যে সমস্ত গাছে একটু ফুল ফল আসবে সেখানে যদি আমরা 15 থেকে 20 দিন অন্তর এই জল প্রয়োগ করি তাহলে ফলাফল আপনারা হাতেনাতেই দেখতে পারবেন। লঙ্কা গাছ থেকে শুরু করে লেবু গাছে ফুল,ফলের ঝরে যাওয়া অনেকটাই কমে যাবে।

কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার:

কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য আপনাদের ঠিক আগের মতোই কিন্তু পেঁয়াজের খোসা জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর এটাকে ছাকনির সাহায্যে ভালো করে আপনাকে ছেকে নিতে হবে। তারপর ছাদ বাগানে আপনাদের যে সমস্ত গাছ রয়েছে বিশেষ করে যেগুলিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়েছে সেগুলিতে, একটি স্প্রে বোতলের সাহায্যে এই দ্রবণটিকে স্প্রে করে দিতে হবে। কারণ এই পেঁয়াজের খোসার মধ্যে সালফার থাকে। আর সালফার থাকার কারণে কিন্তু পোকামাকড় যদি আপনাদের গাছে উপদ্রব করেও থাকে তাহলেও তারা সরে যাবে।

প্রয়োগের নিয়ম:

যেহেতু আপনারা এখানে স্প্রে বোতল ব্যবহার করছেন তাই গাছের গোড়া থেকে শুরু করে কান্ড বা পাতার বিভিন্ন জায়গায় সহজেই এই দ্রবণ আপনারা কিন্তু ছিটিয়ে দিতে পারবেন। তরল জৈব সারের মতন এটা কেউ আপনারা কিন্তু ১৫ থেকে ২০ দিন অন্তর অন্তর সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।

Leave a Comment