জানেন বিখ্যাত গায়ক কুমার শানুর জীবনে প্রথম গাওয়া গান কোনটি? শুনে নিন সেই দুর্লভ গান

নিজস্ব প্রতিবেদন: আশির দশকে শুরু হয়েছিল তার সংগীত জীবনের পথ চলা। ৯০ এর দশকে সর্বাধিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়ক ছিলেন তিনি। শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝে গিয়েছেন আমরা কার কথা বলছি। আমরা বলছি কুমার শানুর কথা ,যার কন্ঠে এখনো পর্যন্ত অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একদিনে ২৮ টি গান গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। পদ্মশ্রী সহ বহু পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব কুমার শানুর জীবনের কিছু অজানা কথা যা হয়তো আপনাদেরকে অবাক করতে বাধ্য করবে।]

১৯৫৭ সালের ২০ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন কুমার শানু। তবে তার আসল নাম কিন্তু এটা নয়। গায়কের প্রকৃত নাম ছিল কেদারনাথ ভট্টাচার্য। তার বাবা পশুপতি ভট্টাচার্য ছিলেন গায়ক এবং সুরকার। বাবার কাছেই তার সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি শুরু হয়। অভাবের সংসারে ছেলেমেয়েদের অত্যন্ত কষ্ট করে বড় করেছিলেন কুমার শানুর বাবা পশুপতি ভট্টাচার্য। ছেলেকে গান শেখানোর পাশাপাশি তিনি শিখিয়েছিলেন তবলা বাজানো। ১৯৮৯ সাল থেকে কিশোর কুমার কে আদর্শ মেনে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায়, স্টেজ শো এবং রেস্তোরায় গান গাওয়া শুরু করেছিলেন তিনি।

এমনকি তিনি তখন কিশোর কুমারের গায়কী নকল করতেন। তবে তার স্বপ্ন ছিল একদিন তিনিও বলিউডের খ্যাতনামা গায়কদের মধ্যে একজন হবেন। জীবনে প্রথমবার ‘বাপ বেটে’ নামের একটি হিন্দি অ্যালবামে তিনি গান রেকর্ড করেন। সেই গানটির নাম ছিল ‘এ পেয়ার কা মৌসাম’। গানটিতে তিনি ডুয়েট করেছিলেন বানী জয়রামের সঙ্গে। গানটির সংগীত পরিচালক ছিলেন ইলাহীরা আজার। কুমার শানুর জীবনের প্রথম প্লেব্যাক ও কিন্তু একটি হিন্দি ছবিতেই। ছবিটির নাম ছিল ‘ইয়ে দেশ’,যা মুক্তি পেয়েছিল ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে। এই ছবিতে একটি মাত্র গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। কুমার শানুর সঙ্গে গেয়েছিলেন উদিত নারায়ণ, শৈলেন্দ্র সিং এবং শক্তি ঠাকুর প্রমুখরা।

এরপর ১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তিন কন্যা’তে তার গাওয়া গান শুনতে পাওয়া যায়। গানটি অন্য একজনের গাওয়ার কথা ছিল, তবে তিনি উপস্থিত না থাকায় কুমার শানুকে দিয়ে এটি রেকর্ড করান পরিচালক আলম খান। তখন অবশ্য তিনি শানু ভট্টাচার্য নামেই পরিচিত ছিলেন। এরপর সুরকার ও গায়ক জগজিৎ সিং এর হাত ধরে কুমার শানুর কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। তার কন্ঠে গান শুনে খুশি হয়েছিলেন জগজিৎ সিং। তিনি কুমার শানুকে পরিচয় করিয়ে দেন কল্যাণজি—আনন্দজির সঙ্গে। তারাই কুমার শানুকে জাদুগর ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেন

তাদের পরামর্শই তিনি শানু ভট্টাচার্য থেকে নাম পাল্টে হয়ে যান কুমার শানু। এরপর ১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আশিকি ছবিতে সবকটি গান রেকর্ড করেন কুমার শানু। আশিকি ছবিটি বক্স অফিসে তেমন সাফল্য না পেলেও এর প্রত্যেকটা গান সুপার হিট হয়েছিল। এই গানগুলির দৌলতেই ৯০ এর দশকের শুরুতে খ্যাতির শীর্ষস্থানে পৌঁছে যান কুমার শানু। এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি পর পর পাঁচবার পুরুষ গায়ক হিসেবে ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড জিতে রেকর্ড গড়েছেন।

তার পরবর্তী এওয়ার্ড এসেছে হিন্দি ছবি সাজান (১৯৯১), দিওয়ানা (১৯৯২), বাজিগর (১৯৯৩), এবং ১৯৪২: এ লাভ স্টোরি (১৯৯৪) থেকে। দুই দশকের কর্ম জীবন পার করেন তিনি অনেক সংগীত পরিচালকের সাথে, তাদের মধ্যে হচ্ছেন, আর.ডি. বর্মন, আনান্দ-মিলিন্দ, আনু মালিক, যতীন-ললিত, নদীম-শ্রবন, হিমেশ রেশমিয়া, ইসমাইল দরবার, কল্যাণজী-আনান্দজী, লক্ষিকান্ত-পেয়ারেলাল, রাজেশ রোশন, সাজিদ-ওয়াজিদ প্রমুখ।

একটা সময়ের পর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত নানান কারণে গান থেকে বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে মাঝেসাজে তার গান শোনা গেলেও আর আগের মতন সংগীত জগতের সঙ্গে জড়িয়ে নেই কুমার শানু। কুমার শানুর জীবনের এই কিছু অজানা ইতিহাস আপনার কেমন লাগলো তা অবশ্যই আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং প্রতিবেদনটি ভালো লেগে থাকলে লাইক, কমেন্ট করে দিতে ভুলবেন না।

Back to top button