একবার খেলে ভুলবেন না স্বাদ! বাড়িতেই খুব সহজ পদ্ধতিতে বানিয়ে দেখুন কড়াইশুঁটি ও ফুলকপির এই দুর্দান্ত রেসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদন: মোটামুটি আর মাস খানেকের অপেক্ষার পরেই শুরু হয়ে যাবে শীতের আমেজ। শীতকাল মানেই কিন্তু বিভিন্ন রকমের সবজি। এই সময় একটি উল্লেখযোগ্য সবজি হিসেবে কিন্তু আমরা ফুলকপির কথা সহজেই বলতে পারি। কম-বেশি বহু মানুষ রয়েছেন যারা ফুলকপি খেতে অত্যন্ত পছন্দ করেন। ফুলকপি নানান রকম ভাবে রান্না করা যেতে পারে।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনেও আমরা আপনাদের সাথে একটি ফুলকপি আর মটরের রেসিপি শেয়ার করে নিতে চলেছি। আপনারা যারা এই সবজিটি খেতে অত্যন্ত পছন্দ করেন তারা কিন্তু ভুল করেও আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি মিস করবেন না। চলুন আর দেরি না করে আজকের প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।

ফুলকপি তৈরির বিশেষ রেসিপি:

১) ফুলকপি তৈরি করার জন্য আপনাদের মোটামুটি ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম পরিমাণ ফুলকপি আর কিছুটা পরিমাণে মটর নিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি বড় পাত্রের মধ্যে আপনাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে জল দিয়ে তাতে এক টেবিল চামচ লবণ আর এক টেবিল চামচ ভিনেগার দিয়ে গরম করে নিতে হবে। তারপর এর মধ্যে ফুলকপি গুলিকে ভালো করে সেদ্ধ করে নিন।

এবার মোটামুটি মিনিট পাঁচেক সময় পর ফুলকপি গুলি তুলে আপনাদের জল ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার যে জলে ফুলকপি গুলিকে সেদ্ধ করেছিলেন ওই জলের মধ্যে আপনাদের মোটরগুলি দিয়ে একই রকম ভাবে বয়েল করে নিতে হবে। এরপর একটি পাত্রের মধ্যে সেদ্ধ হয়ে যাওয়া ফুলকপি গুলি রেখে তাতে হাফ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং এক চামচ কাশ্মীরি লাল লঙ্কার গুঁড়ো ঢেলে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন।

২) এবার আপনাদের নিয়ে নিতে হবে দুই থেকে তিনটি পেঁয়াজ, চারটি টমেটো, চারটি কাঁচালঙ্কা, চার থেকে ছটি রসুনের কোয়া, ১ ইঞ্চি পরিমাণ আদা এবং ধনেপাতা। তারপর পেঁয়াজ এবং টমেটো স্লাইস করে কেটে নিন। একই রকম ভাবে আদা এবং ধনেপাতা কেউ কেটে নিতে হবে।

আপনারা এই তরকারিতে কাজুও ব্যবহার করতে পারেন। এবার আপনাদের কয়েকটি শুকনো মসলা নিয়ে নিতে হবে। একটি তেজপাতা, সামান্য দারচিনি, একটা বড় এলাচ, চারটি ছোট এলাচ, তিন থেকে চারটি লবঙ্গ এবং ৭ থেকে ৮ টি কালো মরিচ নিয়ে নিন। তারপর কড়াইতে পর্যাপ্ত পরিমাণের তেল ঢেলে দিন। এবার ফুলকপি গুলিকে ভালো করে ভেজে নিতে হবে।

৩) এবার গ্যাসে প্যান বসিয়ে যে সমস্ত শুকনো মসলা গুলি নিয়েছিলেন সেগুলির সাথে সামান্য জিরে এর মধ্যে ঢেলে দিন এবং নাড়াচাড়া করতে থাকুন। তারপর পেঁয়াজের স্লাইস গুলো এর মধ্যে দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত না পেঁয়াজ সোনালী হয়ে আসছে ভেজে নিন। তারপর এরমধ্যে কাঁচা লঙ্কা এবং আদা রসুন ঢেলে দিতে হবে। সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে এর মধ্যে টমেটোর টুকরো গুলিকে দিয়ে দিন। টমেটো হালকা সেদ্ধ হয়ে গেলে এই মিশ্রণের মধ্যে সামান্য জল যোগ করে দিন।

তিন থেকে চার মিনিট সময় পর্যন্ত ঢাকা দিয়ে রাখুন। এরপর ঢাকনা খুলে কিছু সময় নাড়াচাড়া করে আপনাদের ধনে পাতা গুলি কে এখানে দিয়ে দিতে হবে। এরপর এই মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর আপনাদের মিক্সার গ্রাইন্ডার এর সাহায্যে বেটে নিতে হবে। সামান্য জল দিয়ে দেবেন পেস্ট করার সময়। এবার একটি অন্য পাত্রের মধ্যে দুই থেকে তিন টেবিল চামচ ঘি নিয়ে নিন। তারপর এর মধ্যে এক টেবিল চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো,হাফ টেবিল চামচ হলুদ এবং এক টেবিল চামচ ধনে গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে।

৪) তারপর একটি ছাকনির সাহায্যে থেকে যে পেঁয়াজ রসুনের পেস্ট আপনারা তৈরি করেছিলেন সেটাকে এর মধ্যে দিয়ে দিন। মিক্সিং জারের মধ্যে যদি এই মসলার পেস্ট লেগে থাকে তাহলে সামান্য জল দিয়ে কড়াইতে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে ভেজে রাখা ফুলকপি আর মটরগুলিকে এর মধ্যে দিয়ে দিন।

এবারে আরো কিছুক্ষণ আপনাদেরকে এটাকে ফুটিয়ে নিতে হবে যতক্ষণ না ফুলকপি আর মটর ভালোভাবে নরম হয়ে যাচ্ছে।সবশেষে এক টেবিল চামচ কসুরি মেথি যোগ করে গরম গরম রান্না টিকে নামিয়ে নিন। অসাধারণ স্বাদের এই রেসিপিটি আপনাদের খেতে কেমন লাগলো তা অবশ্যই কিন্তু জানাতে ভুলবেন না। গরম ভাত হোক বা রুটি সবকিছুর সাথেই এটা আপনারা পরিবেশন করতে পারেন।

Back to top button