বিনা ঝামেলায় বাড়ির টবেই খুব সহজ এই দুর্দান্ত উপায়ে করুন গাঁদা চাষ, অল্পদিনেই পাবেন দারুণ ফলন!

নিজস্ব প্রতিবেদন: কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে শীতকাল। শীতকাল মানেই কিন্তু রংবেরঙের বিভিন্ন ফুল আর নানান ধরনের সবজির চাষ।শীতকালীন ফুলগুলির মধ্যে গাঁদা অন্যতম একটি জনপ্রিয় ফুল। ধূসর এই শহরের অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিণা জুড়ে নানা জাতের, বিভিন রঙের গাঁদা ফুলে ছেয়ে যাওয়া খুব একটা অপরিচিত কিছু নয়। এই ফুলের চাহিদা সারা বছর ব্যাপী। বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে, বিয়ে, সভা-মিছিল, মিটিং এ গাঁদা ফুলের মালা, তোড়ার ব্যবহার অনস্বীকার্য।

তাই চাহিদা অনুযায়ী কম-বেশি কিন্তু অনেকেই এই ফুলের চাষে অংশগ্রহণ করে থাকেন। অনেকেই আবার বাড়িতে এই সমস্ত ফুলের চাষ করে তা বিক্রি করেন। কিন্তু যেকোনো গাছ লাগানোর পরেই তার সঠিক যত্ন এবং পরিচর্যা পদ্ধতি না জানলে কিন্তু আমাদেরকে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের সাহায্যে তাই আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব বাড়িতে খুব সহজেই মেরিগোল্ড বা গাঁদা ফুল চাষ করার বিশেষ কিছু টিপস। নিয়মগুলি ফলো করলে কিন্তু আপনাদের ফুল চাষে কোন রকমের সমস্যা হবে না এবং সহজেই গাছের বৃদ্ধি হবে। চলুন তাহলে একেবারেই সময় নষ্ট না করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

গাঁদা ফুল চাষের বিশেষ কয়েকটি টিপস:

১) বাড়িতে গাঁদা ফুল চাষ করার জন্য আপনারা সর্বপ্রথম এই যে কাজটি করতে পারেন তা হল কিছুটা পরিমাণ গাঁদা ফুল নিয়ে তা একেবারে একটু ছড়িয়ে ছিটিয়ে আপনাদেরকে শুকিয়ে নিতে হবে। মনে রাখবেন এর ফুলের মধ্যেই যেহেতু বীজ থাকে তাই আপনাদের কিন্তু আলাদা করে বীজ লাগানোর প্রয়োজন নেই। বাজারের যেকোনো দোকানেই আপনারা ২০- ৩০ টাকার মধ্যে গাঁদা ফুল কিনতে পেয়ে যাবেন।

প্রথমেই একটা বড় টবের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়া ফুলগুলিকে আপনারা একটু হাত দিয়ে ভেঙে ছড়িয়ে দিন। গাঁদা ফুলের গাছ লাগানোর জন্য আপনারা কিন্তু ভার্মিং কম্পোস্ট ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ টবে শুকনো ফুলগুলিকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরে আপনাদের কিন্তু উপরে ভার্মিং কম্পোস্ট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

২) গাঁদা ফুলের গাছ লাগানোর পরে আপনাদের যে কাজটি করতে হবে শাওয়ারের সাহায্যে কিন্তু জল দিতে হবে। যাতে কোনরকম ভাবেই গাছের বীজগুলি এদিক-ওদিক ছড়িয়ে না যায় এবং জলটাও মাটির প্রত্যেকটা অংশে ভালোভাবে পৌঁছায়। মনে রাখবেন গাঁদা ফুলের কিন্তু প্রচুর পরিমাণে জলের প্রয়োজন হয় তাই পরিমাণ আপনারা সঠিক রাখার চেষ্টা করবেন। মোটামুটি তিন থেকে পাঁচদিনের মধ্যেই কিন্তু বীজ থেকে ধীরে ধীরে চারা উঠতে শুরু করবে। যদি সেটা না হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই একবার যাচাই করে নেবেন যে ফুলের বীজে কোন রকম সমস্যা আছে কিনা!

৩) মোটামুটি দশ দিনের মধ্যেই কিন্তু ভালোভাবে গাছ বেরতে শুরু করে দেবে। মোটামুটি কুড়ি থেকে বাইশ দিনের মধ্যেই দেখবেন গাছগুলি কিন্তু সঠিক পরিচর্যা পেলে তিন থেকে চার ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়ে যেতে পারে। মোটামুটি ২৫ দিন হয়ে যাবার পরে যদি আপনাদের গাছের পরিমাণ বেশি থাকে সে ক্ষেত্রে এটাকে কিন্তু কোন খোলা জায়গায় বা বড় পাত্রে পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তবে গাছ অন্য টবে লাগানোর সময় আপনাদেরকে কিন্তু কিছু সতর্কতা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।

৪) গাছের ভালোভাবে বৃদ্ধির জন্য আপনারা কিন্তু লিফ কম্পোস্ট ব্যবহার করতে পারেন। সহজেই এটা কিন্তু বাড়িতে তৈরি করে নেওয়া যাবে। যেহেতু এই গাছের বৃদ্ধির জন্য জলের অত্যন্ত প্রয়োজন হয় তাই অবশ্যই আপনারা খেয়াল রাখবেন যাতে কখনো এতে জলের কমতি না থাকে। বিশেষ করে যখনই গাছে আপনারা ফার্টিলাইজার ব্যবহার করবেন তখনই কিন্তু আপনাদের বেশ ভালোভাবে জল দিতে হবে। দিনে মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা এই বাড়ন্ত গাছগুলিকে আপনাদের সূর্যালোকে রাখতেই হবে। মোটামুটি ৩০ দিন অর্থাৎ মাসখানেকের মধ্যেই কিন্তু গাছ ঠিকঠাক বাড়তে শুরু করলে দেখবেন এতে কুড়ি ধরতে শুরু করে দিয়েছে।

৫) মোটামুটি ৩০ দিনের পরেই কিন্তু গাছ টব থেকে অন্য জায়গায় আপনাদেরকে স্থানান্তর করে দিতে হবে বা ওই টব থেকে কিছু গাছ তুলে বন্ধু-বান্ধবদের দিয়ে দিতে পারেন। মোটামুটি ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই সঠিক সার পেয়ে কিন্তু দেখবেন গাঁদা ফুলের গাছে ফুল আসতে শুরু করে দিয়েছে। যদি আপনাদের আরো কোন সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে প্রতিবেদনের সঙ্গে থাকা ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন অথবা নিকটবর্তী যে কোন নার্সারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।।

Back to top button