কালীপুজোয় চরম বিপদে বাংলা! ২৫০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে সিত্রাং, বড়সড় আপডেট আবহাওয়াবিদদের

নিজস্ব প্রতিবেদন: সম্প্রতি মার্কিন গবেষণা সংস্থার এক গবেষণায় একটি বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে কালীপুজোর আগেই ধেয়ে আসতে চলেছে সুপার সাইক্লোন। উৎসবের প্রাক্কালে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কার কথা শুনে রীতি মতন মনমরা হয়ে পড়েছেন মানুষ। করোনা আবহে বিগত বছর দুয়েক সময় ধরে মানুষকে কিন্তু উৎসবের দিনগুলিতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবে চলতি বছরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় অনেক আশা করে রয়েছেন সকলে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোতেও কিন্তু বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এবার কালীপুজোর আগে এই সুপার সাইক্লোন এর আগমনের কথা শুনে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করছেন।

জানা যাচ্ছে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে চলেছে। আর সেই নিম্নচাপই ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় অর্থাৎ সুপার সাইক্লোনে পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। ভারতের ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসের প্রতি যদি আপনারা নজর রাখেন তাহলে লক্ষ্য করবেন, সবকটির গতিবেগ কিন্তু ২২০ কিলোমিটার বা তার থেকেও বেশি ছিল। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় আমফানের কথা যদি আমরা বলি তাহলে তার গতিবেগ ছিল ঘন্টায় দেড়শ কিলোমিটার। তা সত্ত্বেও এই ঝড়ের ফলে যে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতিগুলি হয়েছিল তা এখনো ভুলতে পারেননি অনেকে।

মৌসুম ভবনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, আগামী সপ্তাহের শেষের দিকেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে এই নিম্নচাপ। এটি ভারতের অন্ধপ্রদেশ কিংবা ভারত বাংলাদেশের উপকূলের কোন একটি স্থান দিয়ে স্থলভাগে পার হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।উল্লেখ্য এই নিম্নচাপ টি যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় সেক্ষেত্রে এর নাম হবে ‘সিত্রাং’। ইতিমধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড়ের খবরে বাংলার প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

যেহেতু ঘূর্ণিঝড়ের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না তাই অনেকেই মনে করছেন যে যদি আমফানের মতন কোনো ঘূর্ণিঝড় আবারো দেখা দেয় সেক্ষেত্রে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বা কতটা সমস্যার মুখোমুখি হবেন মানুষ! ১৭/১৮ অক্টোবর তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপ সম্ভবত ১৯ তারিখের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। এটির কেন্দ্রে বাতাসের গতি হতে পারে ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। গতি সঞ্চয় করার পর ২৪ বা ২৫ তারিখ নাগাদ এটা স্থল ভুমিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকছে।

ঘূর্ণিঝড় যেখানেই ভূমি স্পর্শ করুক না কেন উপকূলীয় অঞ্চলে কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দাবি অনুসারে এই ঝড় যদি বাংলার দিকে ধেয়ে আসে সেক্ষেত্রে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়।

এখনো পর্যন্ত ২০০৯ সালের আয়লা ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি মানুষ ভুলতে পারেননি। পরবর্তী সময় বুলবুল আর আমফানেও বিশাল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন থেকেছে আমাদের বাংলা। অক্টোবর আর নভেম্বর মাস বরাবর থেকেই ঘূর্ণিঝড় প্রবণ মাস হিসেবে চিহ্নিত। এর আগেও এই মাসগুলিতে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন থেকেছে আমাদের বাংলা। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে অনেকের মাথাতেই চিন্তার মেঘ দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন দিকে পরিস্থিতি যায়, এখন সেটাই প্রধান দেখার বিষয়।

Back to top button