শীত আসার আগেই জবা গাছে দিন এই দুর্দান্ত সার, কয়েকদিনেই মিলবে গাছ ভর্তি ফুল

নিজস্ব প্রতিবেদন:  আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চলেছি জবা ফুল গাছের পরিচর্যার কথা। পুজোর ফুল হিসেবে চাহিদার বিচারে জবার স্থান কিন্তু সব থেকে উপরের দিকে। অনেক পুজোতেই এই ফুলের কুঁড়ি ও মালার বিশেষ চাহিদা থাকে। অনেকেই কিন্তু আজকাল বাড়িতে জবা ফুল লাগানোর কথা ভাবছেন। কিন্তু কি পদ্ধতিতে জবা ফুল বাড়িতে লাগালে শীতকালেও প্রচুর ফুল আসবে এবং গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠবে এটা অনেকেই জানেন না। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব জবা গাছের কোন ধরনের ম্যাজিক সার দিলে শীতকালেও প্রচুর ফুল ফুটবে এবং গাছ বৃদ্ধি পাবে।

জবা গাছের পরিচর্যা পদ্ধতি এবং সার প্রয়োগ:

প্রথমেই আপনাদের নার্সারি থেকে ভালো মানের জবা গাছের চারা নিয়ে এসে সেটার রোপণ করে বড় করে তুলতে হবে। মোটামুটি একটি ১০ ইঞ্চির টবে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবেন। যাতে বেশ কিছু সময় বড় হওয়ার পরেও গাছটি সহজে এই টবের মধ্যে থাকতে পারে। তবে একটু বাড়তে শুরু করার পরে কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন জবা গাছের মধ্যে দই পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে। এর হাত থেকে আপনাকে অবশ্যই গাছ রক্ষা করতে হবে সঠিক সময়ের মধ্যে। নয়তো ধীরে ধীরে কিন্তু সম্পূর্ণ গাছেই পোকার আক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে।

জবা গাছ পোকার আক্রমণ থেকে প্রতিরোধ করার উপায়:

১) জবা গাছে দইপোকা আক্রমণ করলে কিন্তু এই গাছ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। এই গাছকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য কাকার জৈব কীটনাশক আপনারা গাছে ব্যবহার করতে পারেন। এই কীটনাশক মোটামুটি ১ লিটার জলের মধ্যে ১—১.৫ ml গুলে মিশিয়ে নেবেন। যদি গাছে পোকা আক্রমণের সংখ্যা খুব বেশি হয়ে যায় তাহলে একটুখানি পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে পারেন। এই জল একটি স্প্রে বোতলে ভরে আপনাদের গাছের মধ্যে স্প্রে করে দিতে হবে। ১৫ দিন অন্তর আপনাকে এই স্প্রে করতে হবে যদি গাছে পোকা থেকে যায়। গাছ যদি পোকা আক্রান্ত না থাকে তাহলে কিন্তু এগুলো দেওয়ার দরকার নেই।

২) জবা গাছের কুড়ি ঝড়ে পড়ার সমস্যার প্রতিকার:

জবা গাছের কুড়ি যদি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঝরে পড়ে যায় সে ক্ষেত্রে আপনাদের কিন্তু একটি ফাঙ্গাসাইট ব্যবহার করতে হবে গাছের জন্য। SAAF নামের একটি ফাঙ্গাসাইট রয়েছে যা আপনারা এখানে ব্যবহার করতে পারেন। যদি এই পাউডার আপনার কাছে না থাকে সেক্ষেত্রে আপনারা কিন্তু রান্নাঘরে ব্যবহৃত হলুদ গুঁড়ো নিয়ে নিতে পারেন।

হাফ চামচ হলুদ দিয়ে গাছের গোড়ায় দিয়ে দেবেন তাহলেও কিন্তু এই ছত্রাকের হাত থেকে আপনারা মুক্তি পেয়ে যাবেন এবং গাছের কুঁড়ি ঝরে পড়বে না। আসলে এই গাছের কুঁড়ি ঝরে পড়ে যাওয়া রোগ কিন্তু প্রধানত ছত্রাকের কারণেই হয়ে থাকে। তাই ছত্রাক নাশক অবশ্যই গাছের গোড়াতে দিতে হবে, স্প্রে করে নয়। যখন গাছে সার দেবেন ঠিক তখনই এই ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করে দেবেন।

গাছের গোড়ায় আপনারা দিতে পারেন সিং কুচি/Horn mill । এছাড়াও আপনারা পুরনো গোবর সার বা কম্পোস্ট সার গাছে প্রয়োগ করতে পারেন। বাজার থেকে কিনলে সুফলার কম্পোস্ট সার কিনে নিতে পারেন। এই সারগুলি মাটি হালকা রাখবে এবং গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। জবা গাছের গোড়ায় সরিষা বা বাদামের খোল ও কিন্তু আপনারা সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। গাছের মধ্যে নাইট্রোজেনের মাত্রা ভালো করার জন্য এই সরিষার খোল বিশেষভাবে কার্যকরী। সামান্য পরিমাণে লাল পটাস দিতে পারেন।

গাছ শক্ত করতে এটা সাহায্য করবে। সুপার ফসফেট সার কিন্তু জবা গাছে দেয়া যেতে পারে এটা গাছের শেকড় মজবুত করতে এবং গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। সবশেষে আরো একটি উপাদানের কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেব। অনেক সময় দেখবেন গাছের পাতা ফ্যাকাসে হয়ে যায় বা গাছ একটু ম্যাড়মেরে ধরনের হয়ে পড়ে।

এই সমস্যা থাকলে আপনারা যে কোন অনু খাদ্য জবা গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করতে পারেন‌। এই প্রত্যেকটা সার বা উপাদানই কিন্তু জবা গাছের জন্য ভীষণভাবে কার্যকরী। তাই আপনাদের গাছের সমস্যা অনুযায়ী কিন্তু প্রয়োজন মত এই উপাদান গুলির প্রয়োগ করতে ভুলবেন না। গাছপালা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের টিপস পেতে আমাদের পোর্টালের পাতায় নজর রাখতে থাকুন।

Back to top button