যেকোনো গাছেই অল্পদিনেই ধরবে প্রচুর ফুল আর ফল, ব্যবহার করে দেখুন এই দুর্দান্ত ঘরোয়া সার

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমাদের চারপাশে কিন্তু অনেক বাগান প্রেমী মানুষ রয়েছেন, যারা নিয়মিত বাড়িতে ফুল ফল থেকে শুরু করে শাকসবজি অনেক কিছুই চাষ করতে পছন্দ করে থাকেন। কারুর বাড়িতে হয়তো বাগানের জন্য রয়েছে আলাদা জায়গা আবার কারুর বাড়িতে হয়তো ছাদের মধ্যেই নানান ধরনের গাছপালা লাগিয়ে বড় করে তোলা হয়।

এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে একটি ম্যাজিক সার তৈরি করার পদ্ধতি শেয়ার করে নেব যার সাহায্যে খুব সহজেই কিন্তু আপনারা যে কোন গাছ বৃদ্ধি করতে পারবেন। শুধুমাত্র তাই নয় এই সার ব্যবহার করলে অল্প দিনের মধ্যেই গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল আর ফল ধরবে।

গাছের বৃদ্ধির জন্য ম্যাজিক সার বানানোর টিপস:

গাছের বৃদ্ধির জন্য আমরা আজকে যে জিনিসটি নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি তার সঙ্গে আপনারা কিন্তু কম বেশি সকলেই পরিচিত।। এটি হলো ভাতের মাড় বা ভাতের ফ্যান। তবে এটি কিন্তু সরাসরি গাছে দেওয়া সম্ভব নয়। গাছে ভাতের ফ্যান দিতে গেলে আপনাদেরকে নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাড়িতে শুধু গাছ লাগালেই হয় না সেই গাছগুলির সমস্যার উপরেও খেয়াল রাখতে হয়।

লক্ষ্য করে দেখবেন অনেক এমন গাছ থাকে যেগুলির পাতা আচমকাই পুড়ে যাওয়া শুরু হয়, লাউ গাছের অনেক সময় বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় অথবা লঙ্কা গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া প্রত্যেকটাই কিন্তু বাগানের একটা বিশেষ সমস্যা। কম-বেশি সকলের বাড়িতেই কিন্তু প্রতিদিন ভাত রান্না করা হয়ে থাকে। ভাতের ফ্যান রান্নার পরে কিন্তু অনেকেই ফেলে দিয়ে থাকে। কিন্তু এই ভাতের মার দিয়ে যে অসাধারণ জৈব সার তৈরি করা যেতে পারে তা হয়তো অনেকেরই অজানা।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে ভাতের মাড়ের মধ্যে উপাদান হিসেবে রয়েছে ক্যালসিয়াম, লৌহ, কপার, জিংক, ম্যালানিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ। এছাড়াও ভাতের ফ্যানের মধ্যে রয়েছে হিউমিক অ্যাসিড ও অ্যামাইনো এসিড। এই প্রত্যেকটা উপাদান কিন্তু মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে। কিন্তু সরাসরি ভাতের মার যদি গাছে ব্যবহার করা হয় তাহলে কিন্তু উপকারের থেকে বেশি ক্ষতি হবে।

ভাতের মাড় গাছে প্রয়োগ করার নিয়ম:

১) প্রথমেই আপনাদের ভাতের মাড় সংগ্রহ করে এটাকে ঠান্ডা করে নিন। তবে খুব বেশি সময় কিন্তু এটাকে ফেলে রাখবেন না,তাহলে জমে যেতে পারে। ভাতের মাড় যদি আপনারা সরাসরি গাছে প্রয়োগ করেন সেক্ষেত্রে কিন্তু গাছে পিঁপড়ের আক্রমণ হতে পারে। তাই আপনারা গাছের জন্য যতটা পরিমাণে ভাতের ফ্যান নিতে চান তার চার থেকে পাঁচগুণ জল আপনাদের এর মধ্যে মিশিয়ে নিতে হবে।।

২) অর্থাৎ যদি আপনারা এক লিটার ভাতের ফ্যান ব্যবহার করে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনাদের চার থেকে পাঁচ লিটার জল এর সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। একটি বড় বালতি নিয়ে আপনারা প্রথমেই এই কাজটি সম্পূর্ণ করে ফেলুন। এরপর এই মিশ্রণের মধ্যে আপনাদের পরবর্তী ধাপে প্রতি লিটার জলের জন্য ১০ গ্রাম করে ইউরিয়া সার মিশিয়ে নিতে হবে।

৩) তৃতীয় ধাপে আপনাদের এই মিশ্রণের মধ্যে আরও একটি উপাদান মেশাতে হবে। এই উপাদানটি হল থিওবিট। এটি হলো সালফারযুক্ত ছত্রাক নাশক। এই উপাদান গাছের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি গাছের মূলকে ছত্রাকের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। প্রতি লিটার জলের জন্য এই উপাদানটি আপনাদের এক চামচ করে মিশিয়ে নিতে হবে। সবশেষে সম্পূর্ণ দ্রবনটি একবার ভালো করে মিশিয়ে নিন যাতে উপাদানগুলি একসঙ্গে হয়ে যায়।

বিশেষ কিছু টিপস:
1.যেসব গাছে রোদ পড়ে না অথবা বেশি ছায়া রয়েছে সেই সব গাছে এই ভাতের ফ্যানের মিশ্রণ কিন্তু কোনোভাবেই আপনারা প্রয়োগ করবেন না। বাকি সব ধরনের গাছে জৈব সার হিসেবে কিন্তু আপনারা এই দ্রবণটি প্রয়োগ করতে পারবেন।

2. বিকেল বেলায় এই মিশ্রণটি গাছে প্রয়োগ করার জন্য একটি উপযুক্ত সময়। যেভাবে আপনারা গাছের পরিচর্যা করার জন্য জল দিয়ে থাকেন ঠিক তেমনভাবেই ভাতের ফ্যানসহ এই মিশ্রণটিকে আপনাদের গাছের গোড়ায় ঢেলে দিতে হবে।

3. অন্ততপক্ষে 10 থেকে 15 দিন অন্তর যদি আপনারা এই মিশ্রণটি গাছের গোড়ায় দিতে পারেন তাহলে অনেক সমস্যা থেকেই খুব সহজে আপনার বাগান মুক্তি পেয়ে যাবে। গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে পুড়ে যাওয়া, গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে পড়া অথবা ফুল ঝরে যাওয়া সবকিছুই কিন্তু এই মিশ্রণ ঠিক করতে সাহায্য করবে।

Back to top button