২০ বছর পর স্বপ্নের হাতছানি, KBC-তে ২৫ লক্ষ টাকা জিতলেন মুর্শিদাবাদের মেয়ে রুণা!

২০ বছর পর স্বপ্নের হাতছানি, KBC-তে ২৫ লক্ষ টাকা জিতলেন মুর্শিদাবাদের মেয়ে রুণা!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- আমাদের দেশে আমাদের কে মনোরঞ্জন করার জন্য ইতিমধ্যে বাজারে এসেছে বিভিন্ন রিয়েলিটি-শো । কখনো গানের অনুষ্ঠান তো কখনো নাচ। কখনো আবার হাসির অনুষ্ঠান সারা বছর ধরে রেখেছে আমাদের মেজাজ কে । তবে সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের কে রিয়েলিটি শো এর নাম হল “কোন বানেগা ক্রোড়পতি” অর্থাৎ কেবিসি। ২০০০ সালে প্রথম রিয়েলিটি শো টি আ-ত্মপ্র-কাশ করে টেলিভিশনে মাধ্যমে। এই রিয়েলিটি শোয়ের সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চন । কাজেই সে দিক থেকে খুব তাড়াতাড়ির মধ্যে এক বড় জনপ্রিয়তা লাভ করে এই রিয়েলিটি শো টি।

এই রিয়েলিটি শো-এর আসার ইচ্ছা কমবেশি সবার থাকে। তার সাথে থাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু টাকা ।কারণ এই রিয়েলিটি শো তে জিতলেই পাওয়া যায় মোটা অংকের টাকা ।তবে তার জন্য বেরোতে অনেকগুলি ধাপ। সেই সমস্ত ধাপগুলি সবাই পেরে উঠতে পারেনা বলেই অনেকে স্বপ্ন থেকে যায় অধরা। সেরকমই কলকাতার এক বাসিন্দা বলাবাহুল্য মুর্শিদাবাদের মেয়ে বর্তমানে কলকাতার বাসিন্দা রুনা সাহার স্বপ্ন থেকছিলো অধরা।

দীর্ঘদিন ধরে তার বাসনা ছিল এই রিয়েলিটি শোতে এসে বেশ কিছু টাকা নিয়ে যাবেন তিনি বাড়িতে। তবে সে রকম ভাবে সুযোগ হয়ে ওঠেনি ।এবার হল ।এবং রীতিমত তিনি তার স্বপ্নকে পূরণ করলেন। আনন্দে উচ্ছাসে হয়ে রুনা সাহা তুলে ধরলেন তার অভিজ্ঞতা। তিনি বললেন ” ২০০০ সালে যখন প্রথম KBC শুরু হয় তখন থেকেই দেখতাম। যদিও আমার তখন কেবল কানেকশন ছিল না। পাশের একটি বাড়িতে আমি ও আমার স্বামী KBC দেখতে গিয়েছিলাম। আমারা দুজনেই অমিতাভ বচ্চনের বড় ভক্ত।

তখন থেকেই শুরু হয়েছিল স্বপ্নের জাল বোনা। অনেক বছর ধরে আমি চেষ্টা করেছি KBCতে যাওয়ার, কিন্তু হয়নি। এবছর শুরুর দিকে প্রথম IVR ফোন পাই। তবে কাউকে জানাই নি, শুধু মেয়েকে বলেছিলাম। তারপর কোভিড পরিস্থিতির কারণে আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। তবে জুলাই মাসে ইন্টারভিউয়ের জন্য ফোন আসে, তখন আমি আমার স্বামীকে জানাই। এরপর বাড়ি থেকেই ভিডিয়ো কলে অডিশন হয়। অগস্টের শেষের দিকে আমি মুম্বইয়ে যাচ্ছি, ওনারা নিশ্চিত করেন। তখন মা ও দাদাকে জানিয়েছিলাম। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হয় শ্যুটিং হয়েছিল। গতকাল (শুক্রবার) যে এপিসোডটি দেখানো হয়েছে, সেটি ২৮ সেপ্টেম্বর শ্যুট হয়। পুরো বিষয়টিতেই আমাকে আমার স্বামী গৌতম সাহা, মেয়ে দেবশ্রীতা সাহা এবং পরিবারের সকলেই ভীষণ উৎসাহ দিয়েছেন।”

তিনি এতটাই উচ্ছ্বসিত এবং আবেগপ্রবণ ছিলেন যে শুধুমাত্র এই টুকুতেই থেমে যাননি। তিনি আরো জানান । রুণার কথায়, ”আমি ২৫ লক্ষ টাকা জেতার পর ৫০ লক্ষ টাকার খেলার জন্য আর ঝুঁ-কি নিই নি। তবে ৫০ লক্ষ টাকার প্রশ্নটিতেও আমি সঠিক উত্তরই দিয়েছিলাম। তাই একটু আফ-সোস হচ্ছে। আমি মুর্শিদাবাদের মেয়ে, আমি KBC জেতায় ওখানকার মানুষ ভীষণ খুশি। আমার শ্বশুরবাড়ি কৃষ্ণনগর, তবে বহুবছর হয়ে গেল আমি বেহালার শকুন্তলা পার্কের বাসিন্দা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আমার প্রতিবেশী নন, তবে খুূব কাছেই থাকেন। মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি কৃষ্ণনগর, কলকাতার মানুষও আমার এই জয়ে খুব খুশি।”

বর্তমানে উনার একটি শাড়ির ব্যবসা আছে। এখন থেকে প্রাপ্য টাকা দিয়ে তিনি তার শাড়িটা আরো বড় করবেন বলে জানা গেছে ।