গোলাপের একটি ডাল থেকেই বিনা ঝামেলায় হবে সুন্দর গোলাপ গাছ, শুধু মেনে চলুন এই সহজ পদ্ধতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা গোলাপ গাছের পরিচর্যা পদ্ধতি এবং এর কাটিং দেওয়ার সঠিক উপায় নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চলেছি। গোলাপ গাছ কিন্তু নানান রকমের হয়ে থাকে। যথা-হাইব্রিড টি, হাইব্রিড পার্পেচুয়েল, পলিয়েন্থা, ফ্লোরিবান্ডা, মিনিয়েচার এবং প্লেমবার। গোলাপ চাষের জন্য উর্বর দোআঁশ মাটির জমি হলেই সব থেকে বেশি ভালো হয়। যে মাটিতে জল জমে থাকে না সেটা গোলাপ গাছের জন্য একেবারে আদর্শ। চলুন এবার আর সময় নষ্ট না করে কিভাবে কাটিং এর মাধ্যমে আপনারা গোলাপ গাছ বাড়িয়ে তুলতে পারেন সেই সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।

গোলাপ গাছের কাটিং লাগানোর পদ্ধতি:

গোলাপ গাছের কাটিং তৈরি করার সময় আপনাদের একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটা হচ্ছে এটা কতটা পুরনো বা মোটা অবস্থায় থাকছে। কোনোভাবেই এটা যেন খুব একটা পাতলা না হয়। দেখবেন গাছের কান্ডের চামড়া শুকিয়ে গেলে বা শক্ত হয়ে গেলে বুঝে নেবেন সেটা কিন্তু একেবারে পুরনো ডাল। কাটিং লাগানোর আগে আরও একটি ব্যাপার লক্ষ্য রাখবেন যাতে আপনাদের সেই যন্ত্রটি একেবারে পরিষ্কার অবস্থায় থাকে। কোনরকম অন্য গাছের ফাঙ্গাস বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস সেটাতে না থাকাই ভালো।

খুব বেশি পুরনো বা খুব বেশি নতুন নয় এরকম দেখে আপনাকে ডাল কেটে নিতে হবে। তবে কাটার সময় খেয়াল রাখবেন খুব বেশি বড় করে কিন্তু কাটবেন না।। এবার কাটিং করে নেওয়ার পর আপনাদেরকে ওই ডাল থেকে পাতা বা সরু যে ডালগুলো থাকবে সেগুলোকে বের করে নিতে হবে। এই কাজটা যদি আপনারা না করেন সেক্ষেত্রে কিন্তু মূল কাণ্ডের খাবার সবকিছুই এই পাতা বা ডালগুলোর মধ্যে চলে যেতে পারে। কাটিং কিন্তু ভুল করেও উল্টো লাগালে চলবে না। যে অংশটা গাছের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল সেই অংশটাই কিন্তু আপনাদেরকে লাগাতে হবে।।

অক্টোবর থেকে শুরু করে এপ্রিলের মাঝামাঝি আপনারা যদি এই কাটিং লাগান তবেই কিন্তু ফলাফল পাবেন। এই সময়টা একেবারে আদর্শ সময়। এই কাটিং লাগানোর জন্য আপনারা যে পাত্রটি ব্যবহার করবেন সেটা মোটামুটি 6 থেকে 12 ইঞ্চির মধ্যে হতে হবে। খুব বেশি হলে গাছের শিকড় বিস্তার হতে পারবে না এবং খুব বেশি বড় হয়ে গেলে কিন্তু ফাঙ্গাস বংশ বিস্তার করতে পারে। যে পাত্রটি আপনারা এই কাজে ব্যবহার করছেন সেটার তলার অংশে যেন যথেষ্ট পরিমাণে ছিদ্র থাকে যাতে অতিরিক্ত জল বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। এবারে এই ছিদ্র গুলিকে ঢাকার জন্য আপনাদের কোন সমান মাপের পাত্র অথবা কাঠের টুকরো নিয়ে নিতে হবে। নয়তো জল দেওয়ার সময় কিন্তু এই ছিদ্র গুলির সাথে মাটি বেরিয়ে যেতে পারে।

কাটিং লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মাটি:

যেকোনো ধরনের মাটি যেমন বালিযুক্ত অথবা শক্ত কিংবা নরম কাটিং কিন্তু লাগানো যেতে পারে। তবে এই মাটিতে কিন্তু আপনারা কোন রকমের ভার্মিং কম্পোস্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ এই ধরনের ভার্মিং কম্পোস্টের মধ্যে কিন্তু নাইট্রোজেন জাতীয় জিনিস থাকে। এগুলি গোলাপ গাছের বৃদ্ধি আটকে দিতে পারে। আপনারা নার্সারির তাজা মাটি ব্যবহার করতে পারেন। মোটামুটি উপরের দিকে এক ইঞ্চি খালি রেখে আপনারা এই মাটি টবের মধ্যে ভরে দিন। এরপর আপনাদের ব্যবহার করতে হবে রুটিং হরমোন।

তার জন্য বাজার থেকেও আপনারা এটা কিনে নিয়ে আসতে পারেন অথবা বাড়ির মধ্যে থাকা একটা জিনিসও ব্যবহার করতে পারেন।। রুটিং হরমোন হিসেবে আমরা আজ বলবো পেঁয়াজের কথা। এই পেঁয়াজের মাঝ বরাবর একটি ছিদ্র করে গোলাপের যে ডালটি কাটিয়ে রেখেছিলেন সেটাকে এর মধ্যে যোগ করে দিন। এতে পেঁয়াজের রস ডালটির মধ্যে লেগে যাবে। তারপর ডালটিকে মাটিতে পুঁতে দিন এবং হালকা ছায়া-রোদ যুক্ত স্থানে রাখুন।

তারপর একটি কোকাকোলার অর্ধেক কাঁটা বোতল দিয়ে আপনাদের এটা ঢেকে দিতে হবে যাতে এর মধ্যে উপযুক্ত ময়েশ্চার আর আদ্রতা সঠিকভাবে বজায় থাকে। যখনই আপনারা লক্ষ্য করবেন কাটিং এর ডালটির মধ্যে ধীরে ধীরে পাতা গজানো শুরু হয়ে গিয়েছে তখন এই বোতলটা আপনাদের কিন্তু সরিয়ে দিতে হবে। ব্যস মোটামুটি মাস খানেকের মধ্যেই কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করবেন যে ভালোভাবে গোলাপ গাছ বেরিয়ে গিয়েছে। তবে গাছ বেরোনোর পরেও কিন্তু আপনাদের উপযুক্ত পরিচর্যা বজায় রাখতে হবে।

Back to top button